আগামীকাল ১১ জানুয়ারি সারাদেশজুড়ে চলবে টিকাদান কর্মসুচী।

নাঈম হাসান:

১১ জানুয়ারি ২০২০ শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুকে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে বলা হয়েছে।
দীর্ঘ ১০ মাস ১০ দিন সাধনার পর একজন মা একটি শিশুর জম্ম দেন। জম্মের পর মা-বাবা আতীয় পরিজন পৃথিবীর নতুন অতিথিকে সুস্থ-সবল রাখতে কত কিছুই না করে থাকেন। একটা সময় আসে শিশুটিকে প্রয়োজনীয় টিকা দেয়ার। শিশুকে সুস্থ-সবল একজন মানুষরুপে পৃথিবীতে স্থান করে দেয়া বাবা-মা সহ পরিবারের দায়িত্ব। শিশুকে প্রধানত প্রতিষেধক ৫টি টিকা প্রদান করা হয়। শিশুকে সঠিক সময় এ টিকা দিতে হবে। টিকা প্রদানের ফলে ছোট খাটো অসুস্থতা জ্বর, বমি ডায়রিয়া ইত্যাদি কারনে টিকাদান স্থগিত করার কারন নেই। বর্তমান টিকা লক্ষ মাত্রা শতকরা ৯৮-৯৯ ভাগ অর্জন হয়েছে।নবজাতকের বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া নিয়ে মা-বাবা অনেক সময় দুশ্চিন্তায় পড়েন। কখন কোন টিকা, একসঙ্গে এত টিকা দেওয়া ঠিক কি-না, শিশু অসুস্থ থাকা অবস্থায় টিকা দেওয়া যায় কি-না, কোনো কারণে তারিখ পেরিয়ে গেলে কী করতে হবে_ এসব বিষয় নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন।
শিশুর জন্মের এক বছরের মধ্যে আবশ্যক টিকাগুলোর সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করতে হবে। এগুলো হচ্ছে বিসিজি (যক্ষ্মা), ডিপিটি (ডিপথেরিয়া-হুপিংকাশি-ধনুষ্টঙ্কার), পোলিও, হেপাটাইটিস বি ও হামের টিকা। এ ছাড়া রয়েছে নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, বসন্ত ও অন্য কিছু টিকা, যা বাধ্যতামূলক নয়। একই টিকার দুটি ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ২৮ দিনের বিরতি থাকা উচিত।
একই দিনে একাধিক টিকা দেওয়াতে কোনো সমস্যা নেই। কোনো কারণে তারিখ পার হয়ে গেলে পোলিও, ডিপিটি, হেপাটাইটিস বি তারিখের অনেক পরে এমনকি এক বছর পরে দিতেও সমস্যা নেই।
পোলিও টিকা মুখে খেতে হয় বলে ডায়রিয়া থাকলে সিডিউলের ডোজ খাওয়ানোর পর ২৮ দিন বিরতিতে একটি অতিরিক্ত ডোজ খাওয়ানো হয়।
বিসিজি টিকা দেওয়ার এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে টিকার স্থানে ঘা হওয়ার কথা। ঘা না হলে টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। টিকা দেওয়ার ত্রুটি বা শরীরে অপুষ্টি দেখা দিলে সাধারণত ঘায়ের দাগ ফুটে উঠে না। অনেকে কসমেটিকজনিত কারণে টিকা হাতে দিতে চান না। তবে তা প্রথাসিদ্ধ নয়।
সাধারণত ডিপিটি বাম ঊরুতে ও হেপাটাইটিস ডান ঊরুতে দেওয়া হয়।
নয় মাস বয়সের আগে হামের মতো র‌্যাশ হয়ে থাকলেও যথাসময়ে মানে নয় মাস পূর্ণ হলেই হামের টিকা দেবেন। সরকারি টিকা দান কেন্দ্রে ১৫ মাস বয়সে বিনামূল্যে এমএমআর নামক আরও একটি বাড়তি হামের টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। এ টিকাটিও মিস করা যাবে না। জার্মান মিসেলস বা রুবেলা ভাইরাসজনিত শিশুদের জন্মগত হদরোগ, মস্তিষ্কের বিকৃতি, জন্মগত চোখের ছানি এসব ভয়াবহ রোগ প্রতিরোধে এই ভ্যাক্সিন অব্যর্থ ভূমিকা পালন করে থাকে।
ছোটখাটো অসুস্থতা যেমন : জ্বর, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি কারণে টিকাদান স্থগিত করার কারণ নেই। মারাত্মক অসুস্থ শিশু, খিঁচুনি হচ্ছে এমন শিশু এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল যেমন : কেমোথেরাপি গ্রহণকারী বা এইচআইভি আক্রান্ত শিশুকে টিকা না দেওয়াই উচিত। যেসব শিশুর স্নায়ুরোগ আছে, তাদের ডিপিটি না দিয়ে ডিটি দেওয়াই ভালো।
সুত্রঃ- বাংলাদেশ শিশু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ।