সাখাওয়াত ফারহান ||

আবরারকে হত্যা করার কোনো পূর্ব পরিকল্পিনা ছিলো না। মারধরের এক পর্যায়ে সে মারা যায়, বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে গ্রেফতারকৃত আসামিরা। মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ-ডিবির (ঢাকা দক্ষিণ) এডিসি রাজীব আল মাসুদ সাংবাদিকদের একথা জানান।

এদিকে আবরার হত্যায় দায়ের করা মামলায় ১৯ আসামির মধ্যে শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপ-সম্পাদক ও পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহার নাম না থাকার বিষয়টি ইচ্ছাকৃত নয় বলে জানিয়েছেন এডিসি রাজীব আল মাসুদ।
সোমবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের তিনি কথা বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া, আবরার হত্যার ঘটনায় আটক ১০ জন তাদের সম্পৃক্ততার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে বলেও জানান রাজীব আল মাসুদ।
এদিকে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১০ ছাত্রলীগ নেতাকে ৫ দিন করে রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, হত্যা রহস্য উদঘাটন এবং আরো কারা জড়িত তা জানতেই এ রিমান্ড। যদিও আসামিদের রিমান্ডে না দিয়ে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এদিকে, আবরার হত্যা মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১০ ছাত্রলীগ নেতাকে মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা তিনটায় শুরু হয় রিমান্ড শুনানি। আধাঘণ্টা শুনানি শেষে ১০ আসামির প্রত্যেককে ৫ দিন করে রিমান্ডে দেন মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। দুই আসামি জামিন আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। অন্য আসামিরা জামিন আবেদন করেননি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, রিমান্ডের পরই হত্যার মূল রহস্য এবং আর কারা জড়িত তা বেরিয়ে আসবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেই হত্যাকাণ্ডের কারণেই রিমান্ডের প্রার্থনা করা হয়েছিল।
এদিন রিমান্ডের বিরোধিতা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদনে সাড়া দেননি আদালত।
এদিকে, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
চকবাজার থানা সহকারী কমিশন সিরাজুল ইসলাম বলেন, মামলা এখন আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার দেখছে।
ছেলেকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সোমবার রাতে বুয়েটের ১৯ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাটি করেন আবরারের বাবা। আসামিরা সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগ নেতা।