আমার মেয়ে ভালো নেই: মিন্নির বাবা

‘আমার মেয়ে ভালো নেই, জেলখানায় বিনা চিকিৎসায় আমার মেয়ে মারা যাবে। মেয়ের সঙ্গে একটু কথা বলবো, তাও পারছি না; সবাই শুধু আমাদের ফলো করে। আমাদের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।’ আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর এসব কথা বলেন। বরগুনা জেলা কারাগারে মিন্নির সঙ্গে দেখা করার পর মোবাইলফোনে তিনি এসব কথা বলেন।  

শনিবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টায় বরগুনা জেলা কারাগারে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে যান মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর ও তার পরিবারের সদস্যরা। সাড়ে ১১টার দিকে তারা মিন্নির সঙ্গে দেখা শেষে বের হয়ে মলিন মুখে চলে যান। এসময় সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে কারও সঙ্গেই তারা কথা বলেননি।

পরে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘কিছু লোক সারাক্ষণ আমাকে ফলো করে। আমি যেখানে যাই, তারাও সেখানে যায়। জেলখানায় গিয়ে মেয়ের সঙ্গে একটু কথা বলবো, তাও তাদের ভয়ে বলতে পারি না। মেয়ের সঙ্গে একটু কথা বলবো, তাও বলতে পারিনি। আমার মেয়েকে দূরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে, ঠিকমতো মেয়ের কথা শুনতেও পারিনি। আমার মেয়েটা মনে হয় জেলখানায় বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে।’

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ১৬ জুলাই রাত ৯টার দিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৭ জুলাই বিকাল সোয়া তিনটার দিকে তাকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ডে নিয়ে ৪৮ ঘণ্টা পরই ১৯ জুলাই দুপুর ২টার দিকে মিন্নিকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে মিন্নিকে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়।

পরেরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা দেখা করে জানান, মিন্নিকে পুলিশ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। ২২ জুলাই বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম হাসপাতালে গিয়ে মিন্নির চিকিৎসা ও তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে আবেদন করেন। বিচারক তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মিন্নিকে আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে আইনজীবীর হাতে হাতে ওইদিনের আবেদনপত্র ফেরত দেন।

২৪ জুলাই আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম কারাগারে গিয়ে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে জানান, মিন্নিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। মিন্নি ভালোভাবে হাঁটতে পারেন না। তার চিকিৎসা দরকার। আজও একই কথা বলেছেন, মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। যদিও ২৬ জুলাই (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ১১টায় বরগুনা সিভিল সার্জন অফিসের ডা. হাবিবুর রহমান কারাগারে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির খোঁজ-খবর নিয়ে জানিয়েছেন, মিন্নি সুস্থ আছেন।

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে এখনও চার জন গ্রেফতার হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২৬ জুন সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেওয়ার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।