আম্পানের তান্ডবে যশোরের এক গ্রামে পাঁচজন নিহত।

নিজস্ব প্রতিবেদন || সাখাওয়াত ফারহান :

ঘটনা মণিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা গ্রামে।
যশোরে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে এক গ্রামে স্বামী-স্ত্রী ও বাবা-ছেলেসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে।
বুধবার ঝড়ের রাতে এ ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি।
মণিরামপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছে ওই গ্রামের ঋষিপাড়ার খোকন দাস (৭০) ও তার স্ত্রী বিজন দাসি (৬০), দফাদারপাড়ার ওয়াজেদ আলী (৫০) ও তার ছেলে মোহাম্মদ ইসা (১৫) এবং আছিয়া বেগম (৭০)।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন স্থানীয়দের বরাতে জানান, ঝড়ের রাতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বেরিয়েই গাছ চাপা পড়েন খোকন ও বিজন দাসি।
অপরদিকে নিরাপত্তার জন্য ঘর ছেড়ে খামারের মুরগীর ঘরে অবস্থান নেন ওয়াজেদ আলী ও তার ছেলে ইসা। কিন্তু ওই ঘরের উপরই গাছ পড়ে চাপায় প্রাণ হারান বাবা-ছেলে।
এছাড়া বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন বৃদ্ধা আছিয়া। ঝড়ে বারান্দার টালির ছাউনির পর আছড়ে পড়ে একটি গাছ। ওই গাছে চাপা পড়ে নিহত হন তিনি।
রাত পর্যন্ত জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানতেন না বিষয়টি। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বলেন, ওখানে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে আরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি জানান।
মণিরামপুর থানার এসআই ফাতেউর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে খবর পেয়ে আমরা এলাকায় যাই। ততক্ষণে তিন জনের দাফন শেষ হয়েছে। বাকি দুইজনকে শ্মশানে সৎকারের কাজ চলছিল।
থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই দেবাশীষ গাছ চাপা পড়ে পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ( জিডি) করা হয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম জানান, তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহতদের বাড়ি গিয়ে স্বজনদের সমবেদনা জানান।
এ পাঁচ জনসহ ঝড়ের রাতে যশোরের পাঁচ উপজেলায় ১২জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শার্শা উপজেলায় চারজন, চৌগাছা উপজেলায় এক মা ও তার কিশোরী কন্যা এবং বাঘারপাড়া উপজেলায় এক নারী।