উত্তরাধিকারীর অবর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাই-বোন পাবেন ভাতা!

প্রতিবেদক || সাখাওয়াত ফারহান :

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা গ্রহণের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বামী/স্ত্রী/সন্তান/পিতা-মাতার অবর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার ভাই-বোনকে ভাতা গ্রহণের অধিকার দিয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বিল-২০১৮ জাতীয় সংসদে ৫টি বিল উত্থাপিত হয়েছে। বিলটিতে প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত ও নিয়মিত আয়ের উৎস থাকা মুক্তিযোদ্ধাদেরও সম্মানী ভাতা পাওয়ার অধিকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। পরে বিলটি পরীক্ষা করে জাতীয় সংসদে নিরীক্ষা প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়।

এই বিলে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সুবিধাভোগী কারা হবেন, তা স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট তাদের(মুক্তিযোদ্ধাদের) মালিকানাধীন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির উন্নয়ন রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করবে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সম্মানী ভাতা, উৎসব ভাতা বা অন্যান্য ভাতা বা সম্মানী প্রদান করবে।

প্রস্তাবিত আইনানুযায়ী প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীকে ভাইস চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী মনোনীত চারজন মুক্তিযোদ্ধা এমপি বা উত্তরাধিকারী, অর্থ সচিব, শিল্প সচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ও ট্রাস্টের এমডিকে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠিত হবে। বিলে এই বোর্ডের পূর্বানোমদন ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কোনো স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়, হস্তান্তর ও দীর্ঘমেয়াদি ইজারা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রহিত করা হয়েছে।

পূর্বের আইনে প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সদস্য বা সরকারি পেনশনভোগী বা যাদের নিয়মিত আয়ের উৎস আছে, তারা অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তাদের সম্মানীভাতা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছিল না। নতুন আইনে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।