কুমিল্লায় আসছে আরো এক প্রবাসীর কফিন!!

প্রতিবেদক || মোঃএনামুল হক ইমন :

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার খোশবাস ইউনিয়নের দেন্নাগর গ্রামের কৃতি সন্তান মোঃ কবি সোহেল এর সহোদর (ছোট ভাই) সৌদিআরব প্রবাসী মোঃ সোহেল রানা গত বুধবার দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।।

নিহতের বড় ভাই কবি সোহেল রানা জানান,”আমার ছোট ভাই জুয়েল জীবিকার সন্ধানে মাত্র তিন মাস পূর্বে সৌদি অারবে পাড়ি জমায়। সেখানে মোটামুটি ভাল কাজ পেয়েছে। তার কাজ ছিল রাস্তার পাশে গাছে পানি দেওয়া। প্রতিদিনের মত ঐদিন কাজ করার জন্য রাস্তার পাশে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে এক সৌদি নাগরিক তার প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রন হারিয়ে জুয়েলের উপর পড়ে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে জুয়েলসহ সৌদি নাগরিক গাড়ি চালক নিহত হয়।”

দুরন্ত প্রাণবন্ত জুয়েলের ভাগ্য বদল আর হলো না। পরিবার পরিজনের মুখে হাসি দেখতে দেশের মায়া ছেড়ে প্রবাসে যাওয়া জুয়েল হঠাৎ করে কান্নার সাগরে ভাসিয়ে চলে গেছেন পরপারে! জীবনটা নতুন করে সাজানোর আগেই পৃথিবী তাকে বিদায় জানালো!

সৌদি প্রবাসী জুয়েল রানার অকাল মৃত্যুতে খোশবাস ইউনিয়নবাসীও শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে । জুয়েল রানার গ্রামের বাড়ি দেন্নাগরে এখন শোকের ছায়া নেমে গেছে। জুয়েল রানার পরিবারের এই করুণ কান্না থামাবে কি করে ।

নিহতের ভাই কবি সোহেল কি আগেই জেনে গেছেন ভাইয়ের মমতা ভালোবাসা হারানোর কথা!

গত ৭ সেপ্টেম্বর ছোট ভাইকে নিয়ে হৃদয়গ্রাহী এক কবিতা লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসিত হয়েছেন। আজ সেই ভাইটি আর নেই কি নিদারুণ কষ্ট সইতে হচ্ছে জুয়েল রানার পরিবার কে।

দেন্নাগর গ্রামের মোঃ রমিজ উদ্দিনের দুই ছেলের ১ মেয়ের মধ্যে কবি সোহেল বড় ছেলে। আর ছোট ছেলে জুয়েল রানার( অবিবাহিত)সবার ছোট। অকালে চলে যাওয়ায় বাবা মা যেন শোকে পাথর হয়ে গেছেন। এমন যুবকের লাশের বোঝা কি করে কাধে বয়ে শেষ কাজ সম্পূর্ণ করবেন পিতা!

বড় ভাই কবি সোহেল ছোট প্রবাসী ছোট ভাই জুয়েল রানার উদ্দেশ্যে
লেখা গত ৭ সেপ্টেম্বরের কবিতাটি-

আমার ভাই জুয়েল রানা
_ মোঃ সোহেল রানা

ভাইটা আমার দূরে থাকে,
পরাণ টা তাই পুড়ে গো।
ইচ্ছে করে যাই ছুটে যাই,
পাখির মত উড়ে গো।

সেই মায়াবী মুখটি আমি,
দেখিনা আজ অনেক দিন।
চোখের জলে শোধ করে যাই,
ভালোবাসা ভাইয়ের ঋণ।

মায়ের হাতের আলু ভাজি,
পান্থা থাকে হাড়িতে।
কত মানুষ দেখি শুধু,
ভাইটা নাই বাড়িতে।

খেলার সাথী সবাই আছে,
খেলছে গ্রামের মাঠেতে।
পুকুর পাড়ে পাইনা তাকে,
মেম্বার জেঠার ঘাটেতে।

পাইনা তাকে হাতের কাছে,
রাখি হৃদয় জুড়ে গো।
ভাইটা আমার দূরে থাকে,
পরাণ টা তাই পুড়ে গো।
এভাবেই ভাই তার শোকের কথা প্রকাশ করেন।