কুমিল্লায় গৃহবধুকে খুন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন!!

প্রতিবেদক|| মোঃ হাসিবুর রহমান:

কুমিল্লায় এক গৃহবধুকে হত্যা করেছে স্বামী ও শশুরবাড়ির লোকজন। নতুন বিবাহিত গৃহবধু তামান্না ইকবাল(২১), বাড়ি কুমিল্লা জেলার চম্পক নগর(সাতরা) গত শনিবার শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যায় তার স্বামী ঘাতক এফ এম হাবিব ওরফে আমীর হোসেন। নিহত তামান্নার স্বামী পর্তুগালে থাকেন।গত
শনিবার সকালে মেয়ে বাড়িতে এসে বাহিরের পাসপোর্ট ইম্পোর্টেন্স কাগজপত্র গুলো এবং মেয়েকে(তামান্না) তাড়াহুড়ো করে নিয়ে যায়। সবার সাথে স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলে। নিহত তামান্না অনার্সের শিক্ষার্থী এবং ফাইনাল পরীক্ষা ছিল সামনে। বিদেশে থাকে এমন ছেলের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব আসে।সবাই দেখে শুনে বিয়ে দেয়। বিয়ের পর জামাই বাহিরে চলে যায়।কিছু দিন পর আসে। নিহত তামান্না ওর বাবার বাসায় বেশি থাকতো।
গত শনিবার জামাই ওকে নিয়ে যায়।সে (তামান্না) সব সময় বলত,” আমার জীবন নষ্ট হয়ে গেছে। তার (স্বামী)বাহিরে এক চেহারা ভিতরে অন্য চেহারা ছিল। তোমরা তো সেটা দেখ না। আমি সব সহ্য করতেছি।ওর পরিবারের সামনে সবসময় ভাল সাজত। সে আমাকে মারে। আমার ওপর অত্যাচার করে। জ্বলত সিগারেট ও নাকি লাগিয়ে দিতো। ঘরের বড় মেয়ে তামান্না ওর বাবার বাড়িতে থাকাকালীন বলত “আমাকে দিও না।আমি যাবো না।” ওর পরিবারের লোকজন বুঝতে পারেনি কারন সবার সামনে এই ঘাতক স্বামী অনেক ভালো সেজে থাকতো। পরিবারের সবাই ভেবেছে নতুন নতুন আর বয়সটাও কম, আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। অতটা গুরুত্ব মনে না করে না বুঝে পাঠিয়ে দিয়েছিলো শ্বশুরবাড়ি । মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে খবর আসে তামান্না দরজা বন্ধ করে রেখেছে। তামান্নার পরিবারের লোকজন শ্বশুরবাড়িতে গেলেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দরজা দিয়ে ঢুকতে দেয়নি। তার শাশুড়ী আর ননদদের দাবি,”ও ফাঁসি দিয়েছে নিজে। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ।” তামান্নার মা বলছে,”আপনাদের পায়ে ধরি দরজা টা খুলে দেন। আমার মেয়ে কে হসপিটালে নিয়ে যাই কিন্তু উনারা আগে থেকে বলতেছে আপনার মেয়ে মরে গেছে নিজে ফাঁসি দিয়ে”। শাশুড়ী ও ননদ দরজা দিয়ে ভিতরে যেতে দিচ্ছিল না কিন্তু যখন ওনার(তামান্না)চাচা ধাক্কা দেয় দরজা খুলে যায়। মেয়ের পা খাটে লাগানো ওরনা পেচিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে ফ্যান সাথে।তামান্নার শরীরে কলমের ঘাই, কামড়ের দাগ ছিল। জামাই পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে বাহিরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় আছে। বর্তমানে পলাতক রয়েছে ঘাতক স্বামী।স্বামীর পরিবার থেকে ফোনে টাকা অফার করছে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য।মঙ্গলবার ভোরে স্ত্রী কে মারধর করে ওড়না দিয়ে পেচিয়ে ফ্যান এর সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়ে স্বামী পালিয়ে যায়।
কুমিল্লা জেলাধীন ষোলনল ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামের সহিদুর রহমান এর ছেলে এফ এম হাবীব ওরফে আমীর হোসেন।
তার পাসপোর্ট সহ সকল কাগজ পত্র সহ দেশ ত্যাগ করার অভিযোগ উঠেছে।
থানায় মামলা করতে গেলে থানায় মামলা নিতে চায়নি থানায় কর্তব্যরত পুলিশ। শ্বশুরবাড়ির লোকজন টাকা দিয়েছে পুলিশদের যাতে মামলা না নেয় ,পরবর্তীতে চেয়ারম্যান সহ গেলে থানায় মামলা নেয়।