খাদ্য ভেজাল এখন লাগামহীন পাগলা ঘোড়া

সৈয়দ মেহেদী হাসানঃ

বর্তমানে আমাদের জীবনের বহুবিধ সমস্যার মধ্যে অন্যতম একটি হলো লাগামহীন খাদ্য ভেজাল। মানুষ যে খাদ্য গ্রহণ করে জীবন ধারণ করে, তাতে নিরদ্বিধায় অতিরিক্ত লাভের আশায় অসাধু ব্যাবসায়ীরা ভেজাল মিশিয়ে জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।খাদ্যে ভেজাল দেওয়ার মাধ্যমে মানুষত্বের দীনতার চিত্র আজ নগ্ন ভাবে প্রকাশ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অসাধু ব্যাবসায়ীরা বের করেছে খাদ্য ভেজালের নতুন পদ্ধতি। সাধারণত দেখা যায় অসাধু ব্যাবসায়ীরা বিভিন্ন তৈরিকৃত খাদ্যে রং ও অননুমোদিত রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে খাদ্যকে উজ্জ্বল ও দীর্ঘ স্হায়ী করছে। কিন্তু বর্তমানে কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী কাঁচা সবজি, তরকারি, ফলমূলে ও রং ও কৃত্রিম ঘ্রাণ মিশিয়ে বিক্রি করছে। রাসায়নিক রং মেশানোর ফলে কাঁচা সবজিকে দীর্ঘদিন তরতাজা দেখানো সম্ভব হচ্ছে। এমনই চিত্র দেখা যায় রাজধানীর মিরপুর,বনানী ইব্রাহিমপুর, কাফরুল সহ বিভিন্ন এলাকায়। দেখা যায় এসব এলাকায় কিছু ব্যাবসায়ী পেকে বুড়ো হয়ে যাওয়া মটরশুঁটির সাথে গাঢ় সবুজ রাসায়নিক রং মিশিয়ে কাঁচা মটরশুঁটি হিসেবে বিক্রি করছে। একজন ভুক্তভোগী [আসিফ (২৬)] এর সাথে কথা বলে জানা যায়, কম দামে তরতাজা ও মিষ্টি ঘ্রাণ যুক্ত মটরশুঁটি পেয়ে সে প্রায় দুই কেজি মটরশুঁটি কিনে নিয়ে যায়। কিন্তু বাসায় গিয়ে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সিদ্ধ করতে গেলে দেখতে পায় মটরশুঁটি থেকে বেরিয়ে আসছে গাঢ় সবুজ রং ও বিদঘুটে গন্ধ। চাপ সৃষ্টি করার ফলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, “কারওয়ান বাজারের পাইকারী সবজির আড়তেই এই রং মেশানো হয়।” তিনি আরও বলেন, “শুধু মটরশুঁটি নয় বরং সব ধরনের কাঁচা সবজি, যেমনঃ লাল শাক, শশা, গাজর ইত্যাদিতে ও মেশানো হয় রাসায়নিক রং ও ঘ্রাণ। কারণ, উজ্জ্বল রং ও মিষ্টি ঘ্রাণ দেখে ক্রেতা সহজেই আকৃষ্ট হয়। তার কাছ থেকে আরো জানা যায় যে, সে ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে এই মটরশুঁটি কিনে তা ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে। অর্থাৎ লাভ প্রায় দ্বিগুণ। ভেজাল খাদ্য খেয়ে এদেশে অনেক মানুষ মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। তা অনেক বারই পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে, তথাপি কতৃপক্ষের টনক নড়ে না।জনগনের মতে এই লাগামহীন পাগলা ঘোড়াকে প্রতিরোধে ক্রেতা স্বার্থ আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। দরকার প্রশাসনের কড়া নজরদারি।