চট্টগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের সাথে “বন্দুকযুদ্ধে” নিহত দুই।

সাখাওয়াত ফারহান ||
চট্টগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গায় র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক জলদস্যু ও ১০ মামলার আসামি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ও বৃহস্পতিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম: জেলার বাঁশখালীতে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক জলদস্যু নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সোয়া আটটার দিকে পূর্ব চাম্বল এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. ইরান। তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। র‌্যাবের দাবি তার বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, অস্ত্র আইনে ১০টি মামলা রয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ ১৩টি অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান আরটিভি অনলাইনকে জানান, পূর্ব চাম্বল এলাকায় ইরান ও তার সহযোগীরা জড়ো হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। র‌্যাবের টহল দল দেখে তারা গুলি চালায়। এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালালে অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ইরানের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় পুলিশসহ দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ত্রিমুখী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার জয়রামপুর কাঁঠালতলা গ্রামের একটি বাঁশবাগানের মধ্যে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম রোকনুজ্জামান রোকন (৩৫)। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা দক্ষিণ চাঁদপুরের আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে। পুলিশের দাবি রোকন মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামি।
ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় এলজি (আগ্নেয়াস্ত্র), দুইটি কার্তুজ, এক বস্তা ফেনসিডিল ও দুইটি রাম দা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে কাঁঠালতলা গ্রামের করিম মণ্ডলের বাঁশবাগানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের দুটি পক্ষই পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। শুরু হয় পুলিশ ও মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ত্রিমুখী বন্দুকযুদ্ধ। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী গুলিবিনিময়ের পর মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রোকনুজ্জামান নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস আরটিভি অনলাইনকে জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত রোকন নিহত হয়েছেন। নিহত রোকনুজ্জামানের নামে দামুড়হুদা মডেল থানায় পুলিশের ওপর হামলা, মামলা, মাদক, চোরাচালান, ডাকাতি ও অপহরণসহ ১০টি মামলা রয়েছে।