তৃতীয় দিনের বৃষ্টিতেও দুর্ভোগ, জলাবদ্ধতা

আগের দুদিনের ধারাবাহিকতায় বুধবারের বৃষ্টিতেও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মাত্র ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলি-গলি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। আরও দুদিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ফলে নগরবাসীকে টানা আরও দুদিন জলাবদ্ধতা আর দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে। বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে আবহাওয়া অফিস। এর পরের ৩ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয় ৫ মিলিমিটার। এতেই রাজধানীর মিরপুর, শেওরাপাড়া, কাজীপাড়া, মগবাজার, মধুবাগ, রামপুরা, মোহাম্মদপুর, ঝিগাতলা, গুলিস্তান, মতিঝিল, ফকিরাপুল, ধানমন্ডি, গ্রিনরোড, কারওয়ানবাজার, খিলক্ষেত ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক এবং অলি-গলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, আগের দুদিনের মতো বুধবার সকালেও ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের মোড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে যান চলাচলের স্বাভাবিক গতি কমে আসে। আশপাশের সড়কসহ মিরপুর রোডে যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া মিরপুর রোডের বিভিন্ন স্থান, পশ্চিম রাজাবাজার, পূর্ব রাজাবাজার, ফার্মগেট, খামারবাড়ি ও আসাদ গেট এলাকায়ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পশ্চিম রাজাবাজার এলাকার মুদি দোকানি জাহিদ হোসেন জানান, বুধবার সকালে দোকান খুলেই দেখেন বৃষ্টির পানি তার দোকানের ফ্লোর উপচে যাওয়ার অবস্থা। পানিতে ভেজা থেকে রক্ষা করতে দোকানের মালামাল সরিয়ে নেন। তিনি জানান, গত তিন দিনই এই এলাকার বেশিরভাগ গলি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশে বের হওয়া মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। রিকশাচালক হামিদ জানান, গলিতে ছোট-বড় গর্ত থাকায় রিকশা চালাতেও ভয় পান। গর্তে পড়ে পায়ের গোড়ালি ও হাঁটুতে ব্যথা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। মিরপুর-১ নম্বরে চাইনিজের সামনে, মিরপুর-১৪ নম্বর, মিরপুর-২ নম্বরে কমার্স কলেজ সড়কে, শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়ার বেগম রোকেয়া সরণির পুরো সড়কই পানিতে ডুবে যেতে দেখা গেছে। এতে সড়কে চলাচলকারী বাস ও সিএনজির ভেতরেও পানি ঢুকে যায়। এতে অনেক গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চালকরা। মগবাজার, মধুবাগ, গ্রিনরোডসহ বিভিন্ন জায়গায় এবং ঝিগাতলা ও মোহাম্মদপুরে পানি \হজমে থাকতে দেখা গেছে। এসব এলাকায় কোথাও গোড়ালি আবার কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এদিকে, টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের কাঁচাবাজার। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। পানির কারণে অনেকের দোকান বন্ধ রয়েছে। কিছু দোকান খোলা থাকলেও তেমন বেচাকেনা হচ্ছে না। বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঁচাবাজারের বেশিরভাগ জায়গা পানির নিচে তলিয়ে আছে। ফলে আগে যেসব জায়গায় সবজি, কাঁচাবাজারের দোকান বসত সেগুলো নেই। কিছু দোকানি পানির ওপরেই চৌকি বসিয়ে সবজি বিক্রি করছেন। আবার কিছু বিক্রেতার সবজি পানিতে তলিয়ে আছে। ওখান থেকেই সবজি বিক্রির চেষ্টা করছেন তারা। অন্যদিকে, কারওয়ান বাজার সুপার মার্কেটেও পানি ঢুকে যায়। মার্কেটের ভেতরে পানি সেচের মেশিন বসিয়ে পানি সরাতে দেখা যায়। দোকানিরা জানান, অনেকের দোকানের সামনে পানি। এ কারণে পানি মাড়িয়ে কেনাকাটা করতে যান না ক্রেতারা। তাই তাদের বিক্রি কিছুটা কমেছে। ক্ষুদ্র সবজি বিক্রেতা যারা আছেন, তাদের অনেকের বিক্রির জায়গায় তিন দিন ধরে টানা পানি থাকায় দোকান খুলতে পারছেন না। তবে পানির উপর চৌকি বসিয়ে সবজি বিক্রি করছেন অনেকেই। অপরদিকে, আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে এই বৃষ্টিপাত আরও দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত অব্যহত থাকতে পারে। ফলে জলাবদ্ধতার ভোগন্তি আরও দুই-তিন দিন দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ঢাকায় বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর থেকে বিকেল পর্যন্ত আর তেমন বৃষ্টি হয়নি। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় কয়েকদিন ধরে সারাদেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস বলেছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। এর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অফিস।