পুলিশের জন্য বরাদ্দকৃত আটার প্যাকেট প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে

পস্নাস্টিকের প্যাকেটে উপরে বড় হরফে লেখা ‘আটা’। এর নিচে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারিতে লেখা ‘লজিস্টিকস বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ’। এর বেশ খানিকটা নিচে বর্ডার দিয়ে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ‘বিক্রয়ের জন্য নয়’। অথচ পুলিশের জন্য বরাদ্দকৃত এ ২ কেজি নেট ওজনের আটার প্যাকেট প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর মুগদা, মায়াকানন, গোপীবাগ, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর ও গোড়ানের বিভিন্ন পাড়া-মহলস্নার মুদি দোকানে।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত আটার তুলনায় এর মান কিছুটা খারাপ হলেও দাম বেশখানিকটা কম হওয়ায় নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ দেদার তা কিনছেন। অন্য আটার চেয়ে এ আটা বিক্রিতে মুনাফা কিছুটা বেশি হওয়ায় দোকানিরা তা বিক্রিতে বেশি উৎসাহ দেখাচ্ছেন। কারও কারও কাছে তারা পুলিশের রেশনের প্যাকেটজাত আটা ‘পুস সেল’ করছেন।

বিক্রয়ের জন্য নয়- লেখা আটা তারা কীভাবে বিক্রি করছে? এ আটা তারা কোত্থেকে কিনেছেন- তা জানতে চাইলে পাড়া-মহলস্নার দোকানিরা প্রায় সবাই একই ধরনের জবাব দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, রাজারবাগের দোকানে এ আটা প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে তারা সেখান থেকে কেনেননি। একটি চক্র এ সব আটা তাদের দোকানে পৌঁছে দিয়ে টাকা নিয়ে গেছে। মাল ফুরিয়ে যাওয়ার পর তারা ফোন দিলে আবার তা দিয়ে যাচ্ছে। দোকানে এ আটা বিক্রি করলে কোনো সমস্যা হবে না; তবে তা একসঙ্গে বেশি পরিমাণ দোকানে না রেখে গুদামে রেখে বিক্রির জন্য তারা পরামর্শ দিয়ে গেছেন বলে জানান দোকানিরা।

দোকানে যারা আটা পৌঁছে দিয়ে গেছেন, তারা পুলিশ সদস্য কিনা তা জানতে চাইলে একাধিক দোকানি জানান, তাদের শারীরিক গঠন ও চাল-চলন দেখে পুলিশ সদস্য মনে হয়েছে। তবে সাদা পোশাকে থাকায় এ বিষয়টি তারা নিশ্চিত হতে পারেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির ডিসি মিডিয়া ওয়ালিদ হোসেন যায়যায়দিনকে বলেন, এ আটা খোলা বাজারে বিক্রি হওয়ার কথা নয়। তবে কোনো পুলিশ সদস্য তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত আটা দোকানে বিক্রি করে দিতে পারে। যদিও তা পরিমাণে বেশি হওয়ার কথা নয়। অবৈধভাবে কেউ পুলিশের এ আটা খোলা বাজারে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।