মিয়ানমার ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আসছে

চট্টগ্রাম: দেশের প্রধান ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম কমেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজি ৬০ টাকা। ভারতের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা। তবে তুরস্ক থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ৫৫ টাকা দাম হাঁকা হলেও খুব একটা বিক্রি হয়নি।

খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় পাইকারি বিপণিকেন্দ্র হামিদ উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর বুধবার ভোররাতে ভারতের পেঁয়াজ বোঝাই ৫টি ট্রাক খাতুনগঞ্জে ঢুকেছে। প্রতি ট্রাকে ১৩ টন পেঁয়াজ ছিল। অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে ৭ ট্রাক পেঁয়াজ এসেছে। প্রতিটিতে ১৫ টন পেঁয়াজ ছিল।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একসময় সারা দেশে চট্টগ্রাম থেকে ভোগ্যপণ্য সরবরাহ করা হতো। কিন্তু পেঁয়াজের ব্যবসাটা ভোমরা, হিলিসহ ভারতের স্থলবন্দর কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। সেখানকার বেপারীরা এখানে ট্রাক ভরে পেঁয়াজ নিয়ে আসে। এরপর আড়তে ভাগ করে দেন। বিক্রির পর আমাদের কমিশন দিয়ে টাকাটা নিয়ে যান। এখন বহদ্দারহাট, পাহাড়তলী বাজার, হাটহাজারী, কেরানি হাট, টেকনাফসহ বিভিন্ন জায়গায় পেঁয়াজের আড়ত হয়েছে। শুধু খাতুনগঞ্জে সীমাবদ্ধ নেই ব্যবসা।

চাক্তাই শিল্প ও বণিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. আবছার উদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, ভারতের পর বাংলাদেশের উপযোগী পেঁয়াজ পাওয়া যায় মিয়ানমারে। দেখতে অনেকটা আমাদের দেশি পেঁয়াজের মতো। প্রথমে ৪২০ ডলার এলসি মূল্য ছিল টনপ্রতি। ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় এখন ৫৭০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে একদিকে টেকনাফ স্থলবন্দরে শ্রমিক সংকট রয়েছে অন্যদিকে কাঠ ও স্টিল বডির ট্রলারে পেঁয়াজের বস্তা গাদাগাদি করে আনতে হয়ে বলে বস্তাপ্রতি ৫-১০ কেজি নষ্ট হয়ে যায়। শুধু এলসি মূল্য দেখলে হবে না এর সঙ্গে অদৃশ্য নানা খরচও বিবেচনায় নিতে হবে।

পেঁয়াজ পরিবহনে নিয়োজিত জাহাজ, ট্রলার, বোট, ট্রাক ইত্যাদিকে হয়রানিমুক্ত পরিবেশ চলাচল নিশ্চিত করা গেলে টেকনাফের পেঁয়াজ সারা দেশে পৌঁছানো সহজ হবে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামের আমদানিকারকেরা রসুন ও আদা আমদানি করলেও পেঁয়াজ আমদানি খুব একটা করেন না জানিয়ে এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, সংকটের সময় জরুরি প্রয়োজনে তারা চীন, মিশর, তুরস্ক, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেন। তবে এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজার দর, আমদানি ঋণপত্র খোলা, পরিবহন ইত্যাদি অনেক বিষয় জড়িত। এক্ষেত্রে সরকার যদি ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করে প্রণোদনা দেন তবে দেশে পেঁয়াজ সংকট থাকবে না। একই সঙ্গে পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের প্রণোদনা দিতে হবে। দেশে পেঁয়াজের মৌসুমে আমদানিকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কমলেও খুচরা পর্যায়ে এখনো তেমন প্রভাব পড়েনি। কাজীর দেউড়ি সিডিএ মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা গেছে মিয়ানমার ও ভারতের পেঁয়াজ ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তারা বলছেন বেশি দামে কেনার কারণে কম দামে বিক্রি করতে পারছেন না।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বাংলানিউজকে বলেন, পেঁয়াজের আড়তদারেরা নাকি কমিশনিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। এটা ক্যাসিনো মালিকের মতো ব্যবসা। পেঁয়াজ কারা আনছে, কারা বাজারে দিচ্ছে তারা কিছু জানে না। এভাবে চলতে পারে না। প্রশাসন যদি আরও কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে বাজার মনিটরিং করতো তাহলে পেঁয়াজ নিয়ে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ পেতো না অসাধু ব্যবসায়ীরা। আগের এলসির পেঁয়াজের দাম এক লাফে দ্বিগুণ হলো কীভাবে।এটা ব্যবসার ধর্ম হতে পারে না।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঢাকায় ট্রাক সেলে পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। চট্টগ্রামে কেন করবে না? যদি পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পারে তবে চট্টগ্রামে টিসিবি থেকে লাভ কী?

পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কোনো যুক্তি নেই: মাহবুবুল আলম
মিয়ানমার ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আসছে
অক্টোবর :৫\১০\২০১৯

মাহমুদুল হাসান নাহিদ।চট্টগ্রাম