বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর!!

প্রতিবেদক|| মোঃ হাসিবুর রহমান:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে তাও আবার কিনা তারই জন্মভূমি গোপালগঞ্জে। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে গোপালগঞ্জ অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ অফিসারদের অফিসের মধ্যে অররুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশ গিয়ে অফিসারদের সেখান থেকে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে কর্মচারী ইউনিয়ন ও অফিসাররা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানির গোপালগঞ্জ প্লান্টের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এ প্লান্টে কর্মচারী ইউনিয়নের কোনও কমিটি নেই। কাজী ইউসুফ নিজেকে স্বঘোষিত সভাপতি ও আজিজ চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক দাবি করে প্লান্টের মূল ভবনের সেন্ট্রাল অয়্যার রুম দখল করে কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এ প্লান্টটিতে প্রকল্পের কাজ এখনও সমাপ্ত হয়নি। প্রকল্পের কাজ কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। তাই এখানে সিবিএ বা ইউনিয়নের কার্যক্রমের কোনও বৈধতা নেই। দুদক প্লান্ট পরিদর্শন করে মূল ভবন থেকে সিবিএ অফিস সরিয়ে নিতে বলে। তাদেরকে প্লান্টের মূল ভবনের রুম ছেড়ে দিতে দুই মাস আগেই জানানো হয়। কিন্তু দুই মাস অতিক্রান্ত হলেও তারা রুম ছাড়েনি। তাই কোম্পানির এমডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রুমে প্লান্টের মেসিনসহ মালামাল ঢোকানো হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কর্মচারী ইউনিয়নের লোকজন বিকেলে ওই রুমের পেছনের দিকের গ্লাসবিহীন জানালা দিয়ে কোনও কিছুর সাহায্যে ধাক্কা দিয়ে দেয়ালে টাঙানো বঙ্গবন্ধুর ছবি ফ্লোরে ফেলে ভাংচুর করে। এ ঘটনায় তারা উল্টো অফিসারদের অভিযুক্ত করে অররুদ্ধ করে রাখে। এ ঘটনার সময় কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান ও দপ্তর সম্পাদক আগস্টিন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ এসে অফিসারদের উদ্ধার করেন।

গোপালগঞ্জ প্লান্টের স্বঘোষিত কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি কাজী ইউসুফ এ ঘটনায় অফিসারদের দায়ী করে বলেছেন, তারা আমাদের ফাঁসাতে ওই রুম থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভেঙেছে। ঘটনার সময় ওই রুমের সামনে অফিসারদের পাহারাদার কর্মরত ছিলেন। রুমে তালা দেয়ার প্রতিবাদে আমরা গেট বন্ধ করে প্রতিবাদ করেছি। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমরা সেখান থেকে চলে আসি। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।