বন্যা দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ভোগান্তি বাড়ছে

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বেশিরভাগ জেলায় তৃতীয় দফার বন্যার আরও অবনতি হয়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে আরও তিন দিন। সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, তৃতীয় দফার এই বন্যা আরও ১০-১৫ দিন স্থায়ী হতে পারে। ফলে এবারের বন্যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় রূপ নিতে পারে। এতে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় তলিয়ে গেছে স্কুল, হাটবাজার, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সেতু ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেকে এলাকা থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। হুমকির মুখে রয়েছে বহু স্থাপনা। মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা। অনেকে কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করছেন। অধিকাংশ জায়গায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। বাড়ছে রোগব্যাধি। দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের তীব্র সংকট। সরকারের পক্ষ থেকে কোথাও কোথাও ত্রাণ দেওয়া হলেও সেটা প্রয়োজনের তুলনায় কম। গত ২৭ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত ছিল বন্যার প্রথম দফা। এরপর ধীরে ধীরে পানি কিছুটা কমতে থাকে। তবে ১১-১৫ জুলাই পর্যন্ত আরেক দফা ঢলের কারণে বন্যার পানি বেড়ে যায়। এরপর চারদিন ধরে পানি কমছিল। কিন্তু সোমবার থেকে তৃতীয় দফায় আবারও পানি বাড়তে শুরু করে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, উজানের ঢলের সঙ্গে দেশে ভারী বৃষ্টিও হচ্ছে। ফলে তৃতীয় দফার বন্যা পরিস্থিতি আগের চেয়ে মারাত্মক হতে পারে। আমাদের আঞ্চলিক অফিস, স্টাফ রিপোর্টার, প্রতিনিধি এবং সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর : সিরাজগঞ্জ: টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদনদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা পস্নাবিত হচ্ছে। যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত তিনদিনে আরও নতুন নতুন এলাকা পস্নাবিত হওয়ায় ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, শাহজাদপুরের গালা, কৈজুরী, পোরজনা, বেলতৈল, জালালপুর, কায়েমপুর, পোতাজিয়া, রপবাটি, হাবিবুলস্নাহনগর ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম পানিতে ভাসছে। বিশেষ করে যমুনা চরের মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। এসব এলাকায় এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হয়নি। দুগ্ধ শিল্পের জন্য বিখ্যাত শাহজাদপুরের হাজার হাজার গো-খামারের গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। শুধু প্রত্যন্ত জনপদ নয়; হুহু করে পানি ঢুকে শাহজাদপুর শহরের বেশ কিছু এলাকার রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে। দর্শনীয় স্থান রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি, মখদুম শাহদৌলা (রহ.) এর মাজার, বাদলবাড়ী শাহ হাবিবুলস্নাহ (রহ.) মাজার এখন পানি নিচে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শাহজাদপুর শহরবাসী। জামালপুর : জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বুধবার যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে জেলার সাত উপজেলার আট পৌরসভা ও ৬৮ ইউনিয়নের মধ্যে ৬০টি ইউনিয়নের ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। বলা চলে, পানির নিচে জামালপুর। বন্যায় তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে রয়েছেন বানভাসিরা। স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল থেকে যমুনা নদীর পানি তৃতীয়বারের মতো বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাই, সুবর্ণখালী, জিঞ্জিরাম, দশআনীসহ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা পস্নাবিত হচ্ছে। সাত উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় বন্যার পানির তোড়ে ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত ২০০ মিটার ব্রিজের একাংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সরিষাবাড়ী-মাদারগঞ্জের ২০টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহন। মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর হুদুর মোড় শাহাজাদা হাট এলাকার ব্রিজে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ভেঙে যাওয়া ব্রিজটি পরিদর্শন করেন। বুধবার সকালে ওই এলাকা ঘুরে জানা যায়, ২০০৬ সালে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। নির্মাণের ১৪ বছরের মাথায় মঙ্গলবার দুপুরে ব্রিজটি দুটি পিলারসহ ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি গার্ডার প্রায় এক ফুট দেবে যায়। পরে একই দিন গভীর রাতে ব্রিজের ওই অংশটি বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে চরাঞ্চলের চররৌহা, চরনান্দিনা, বড়বাড়ীয়া, বীর বড়বাড়ীয়া, হেলেঞ্চাবাড়ী, স্বাধীনাবাড়ী, চরহাটবাড়ী, সিধুলী, চুনিয়াপটল, সিংগুরিয়া, ডিগ্রীপাজবাড়ী, খন্দকারবাড়ী, চরছাতারিয়া, আদ্রা, শুয়াকৈর, মাদারগঞ্জের চরলোটাবর, শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী, সদরাবাড়ী এবং রায়েরছড়া গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। নওগাঁ : প্রবল বর্ষণে পূনর্ভবা নদির পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দুইদিনে নওগাঁর পোরশার নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের জেলেপাড়ার কমপক্ষে ১৯টি বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এসব বাড়িতে বসবাসরত পরিবারের লোকজন স্থানীয় নিতপুর উচ্চবিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। তলিয়ে গেছে প্রায় ২০ হেক্টর (প্রায় ১৫০ বিঘা) আউশ ধান। পস্নাবিত এলাকা পরিদর্শন করে এসে পোরশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ্‌ মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান কাজিবুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দোস্তদার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তারা জানান, প্রবল বৃষ্টির কারণে নিতপুর ইউনিয়নের জেলেপাড়ার ১৯টি বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে এবং ১৪০ বিঘা জমির আউশ ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৫ হেক্টর জমির আউশ ধান একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে বলে কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এ ছাড়াও মশিদপুর ইউনিয়নসহ বেশ কিছু এলাকায় বৃষ্টির পানিতে সদ্য লাগানো আমন ধান ডুবে গেছে। সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্পসমৃদ্ধ এনায়েতপুরের বেতিল স্পার বাঁধে আবারও ৮০ মিটার এলাকা বিলীন হয়েছে। যমুনা নদীতে প্রচন্ড স্রোতে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত তিনদিনে স্পারের মাটির স্যাঙ্কে প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে গেল। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এনায়েতপুর থানার উত্তরাঞ্চল যমুনার ভাঙন থেকে রক্ষায় ১৯৯৯-২০০০ ইং অর্থবছরে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে পাউবোর তত্ত্ব্বাবধানে বেতিল স্পার-১ নির্মাণ করা হয়। প্রতিবছরই যমুনায় পানি বৃদ্ধি ও কমার সময় স্পার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে যমুনার পানি কিছু কমতে থাকায় নদীতে প্রচন্ড স্রোতে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তীব্র স্রোতে আকস্মিকভাবে স্পারের স্ট্রাকচারের প্রায় ২০ মিটার পশ্চিমে মাটির স্যাঙ্কে ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় ৮০ মিটার বিলীন হয়ে যায়। এ ছাড়া গত সোমবার সকালে একই স্থানের পশ্চিমে আর ৭০ মিটার এলাকা ধসে যায়। এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, ধসে যাওয়া এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং চলমান রয়েছে। আশা করছি, দ্রম্নতই ভাঙনমুক্ত করা হবে এলাকা। রাজবাড়ী : বন্যায় রাজবাড়ী সদর, পাংশা ও গোয়ালন্দ উপজেলার প্রায় ৯ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তলিয়ে গেছে এক হাজার ৩৯২ হেক্টর জমির ফসল। এসব এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় ত্রাণ পাচ্ছেন না বানভাসিরা। রাজবাড়ীর তিনটি গেজস্টেশন পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি কমেছে। তবে এখনো বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার, মহেন্দপুরে ১ সেন্টিমিটার কমে ২৯ সেন্টিমিটার ও সেনগ্রাম পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার কমে ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যকবলিতরা জানান, একদিকে বন্যা অন্যদিকে করোনা। ফসল যা ছিল তাও তলিয়ে গেছে। এখন বাড়িঘরে পানি ওঠায় রাস্তায় গিয়ে থাকছেন। তারা সামান্য সহযোগিতা পেয়েছেন বলেও জানান। অন্যদিকে দুই দফায় বন্যার কারণে এখন পর্যন্ত জেলার এক হাজার ৩৯২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোপাল কৃষ্ণ দাস। ৪ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি : কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বুধবার দুপুরে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজান মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে এবং বালু নদীর ডেমরা পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে। অপরদিকে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি স্থিতিশীল আছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঢাকা জেলার আশপাশে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, নাটোর, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ি, শরীয়তপুর ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিপৎসীমার নিচে নেমেছে দুটি নদীর পানি। সেগুলো হলো- তিস্তা (ডালিয়া অংশে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল) ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র (জামালপুর অংশে)। আর নতুন করে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে চারটি নদীর পানি। সেগুলো হলো- করতোয়া (চকরহিমাপুর অংশে বিপদৎসীমা অতিক্রম করেছে), আত্রাই (আত্রাই অংশে), তিতাস (ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে) ও সোমেশ্বরী (কলমাকান্দা অংশে)। ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়া নদীর সংখ্যা দুটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯টিতে। পাশাপাশি এই সময় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়া স্টেশনের সংখ্যা বেড়েছে দুটি। বর্তমানে ৩০টি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে বন্যাকবলিত জেলার সংখ্যাও। ২৪ ঘণ্টায় একটি বন্যাকবলিত জেলা বেড়ে বর্তমানে ১৭টিতে দাঁড়িয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মনিটরিং সেল চালু দেশের বন্যা মোকাবিলা ও তদারকির জন্য একটি মনিটরিং সেল চালু করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। পানি উন্নয়ন্ন বোর্ডের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ২৪ ঘণ্টা বন্যায় পস্নাবিত জেলাগুলো মনিটরিং করবে। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এ ব্যাপারে সজাক রয়েছে। সরকার সমন্বিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কাজ করছে, যাতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রম্নত সহায়তা দেয়া যায়। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সারাদেশের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সভায় এসব কথা বলেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম। তিনি বলেন, সরকার বন্যাদুর্গতদের পাশে রয়েছে। শেখ হাসিনা সরকার থাকা অবস্থায় একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না। বন্যাকবলিত ও ভাঙন এলাকায় সমন্বিতভাবে সরকার কাজ করছে। সেখানে ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক বন্যার পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিচ্ছেন। এ ছাড়া গত এপ্রিল মাস হতে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নিয়েছি। যার কারণে কোথাও বন্যা হলেও ক্ষতির পরিমাণ কম হবে ইনশালস্নাহ।