বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মায়ানমার পুলিশ ফোর্স (এমপিএফ) এর সিনিয়র পর্যায়ের ৭ম সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নাঈম হাসান:

‘যৌথ আলোচনার দলিল’ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং মায়ানমার পুলিশ ফোর্স (এমপিএফ) এর সিনিয়র পর্যায়ের ৫ দিনব্যাপী (০৫-০৯ জানুয়ারি ২০২০) ৭ম সীমান্ত সম্মেলন অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়েছে। উক্ত সীমান্ত সম্মেলনে মায়ানমারের চীফ অব পুলিশ জেনারেল স্টাফ, পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ো থান এর নেতৃত্বে ০৮ সদস্যের মায়ানমার প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন। অপরদিকে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ সাফিনুল ইসলাম, বিজিবিএম (বার), এনডিসি, পিএসসি এর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবি’র উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
বিজিবি মহাপরিচালক, দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি সকল সীমান্ত সমস্যা সমাধানে চীফ অব পুলিশ জেনারেল স্টাফ, এমপিএফ এর ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করেন। বিজিবি’র মহাপরিচালক সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ মাদক, বিশেষ করে ইয়াবা পাচারের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি, মানব পাচার, অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম ও মাদক পাচার বন্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষত বিওপি/ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে Real Time Information আদান-প্রদান এবং প্রতিনিয়ত যোগাযোগের উপর জোর দিয়েছেন। বাংলাদেশ মায়ানমার সীমান্তে বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কথা উল্লেখ করে মহাপরিচালক, বিজিবি এমপিএফ এর কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করেন এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থাপিত IED বা স্থল মাইন অপসারণের জন্য এমপিএফ’কে অনুরোধ জানান।
চীফ অব পুলিশ জেনারেল স্টাফ, এমপিএফ পুলিশ বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মায়ো থান (Police Brigadier General Myoe Than) মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের সকলের পক্ষ থেকে আন্তরিক ও উষ্ণ আথিতেয়তার জন্য মহাপরিচালক, বিজিবি’কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে মোতায়েন করা বিজিবি এবং এমপিএফের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করতঃ বলেন যে, দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পবিত্র দায়িত্ব হ’ল সীমান্তের উভয় পাশে বসবাসকারী মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বজায় রাখা। অন্যান্য সীমান্ত সম্পর্কিত বিষয় উল্লেখ করার পাশাপাশি, তিনি উভয় দেশের সীমান্ত অপরাধ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করতঃ তা মোকাবেলায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রত্যাশা করেন।
তিনি অবৈধ মাদক পাচার ও মাদক ব্যবসা প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার পুনরাবৃত্তি করতঃ বলেন যে, মাদক ব্যবসা তাদের সমাজেও একই প্রভাব ফেলেছে। তিনি মাদক পাচাররোধে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
যেসব বিষয়ে একমত বিজিবি-এমপিএএফ:
৯ টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়েছে বিজিবি-এমপিএএফ। এগুলো হচ্ছে :
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও নেশা জাতীয় দ্রব্য বিশেষত ইয়াবা পাচার রোধে বাংলাদেশ ‘‘জিরো টলারেন্স’’ নীতি বজায় রাখবে এবং মায়ানমার পক্ষ তার জাতীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতি অনুযায়ী মাদক বিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
উভয় পক্ষই আন্তঃদেশীয় অপরাধ, অস্ত্র চোরাচালান, মানব পাচার, পণ্য চোরাচালান ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে।
উভয় পক্ষই যে কোন ধরণের অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম/প্রবেশ এবং সীমান্ত লঙ্ঘন রোধে সম্মত হয়েছে।
উভয় পক্ষই একে অপরের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া সীমানা রেখার উভয় পার্শ্বে ১৫০ ফুট বা ৫০ মিটার এর মধ্যে যে কোন ধরণের সীমানা লঙ্ঘন না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
উভয় পক্ষই সীমান্তে গোলাগুলি/গুলি চালানোর ঘটনা (যদি থাকে) তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একে অপরকে জানাতে সম্মত হয়েছে।
উভয় পক্ষ নিজ দেশের নাগরিক কর্তৃক অজ্ঞতাবশত সীমান্তরেখা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে উভয়ে দেশের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী তাদেরকে ফেরত প্রেরণে তৎপর থাকবে।
উভয় পক্ষই সীমান্ত সম্পর্কিত সমস্যাগুলির সমাধানে Real Time Information আদান-প্রদান করতে সম্মত হয়।
উভয় পক্ষ সীমান্ত সুরক্ষা ও যথাযথ আইন প্রয়োগ নিশ্চিতকরনে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের সীমান্তে যৌথ টহল পরিচালনা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সম্মত হয়।
বিজিবি এবং এমপিএফ এর মধ্যে মৈত্রীসূচক খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক দল বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য উভয় পক্ষ সম্মত হয়।
সুত্রঃ বাংলাদেশ বিজিবি।