ব্যাটারিচালিত রিক্সা বন্ধে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন!!

প্রতিবেদক || মোঃ হাসিবুর রহমান

ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত তিন দিনের অভিযানে ৮৫টি চার্জিং পয়েন্টে হানা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৪টি পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে কেসিসির চূড়ান্ত ঘোষণার পর বুধবার (১৬ অক্টোবর) মহানগরীতে এ ধরনের কোনও রিকশা চলাচল করতে দেখা যায়নি। চালকরা রিকশা চালানো বন্ধ রেখে বুধবার মানববন্ধন করেছেন।এ অবস্থায় নগরজুড়ে পায়ে চালিত রিকশা দেখা গেছে। বিকাল থেকে পায়ে চালিত রিকশার সংখ্যা বাড়তে থাকে।

কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বুধবার মহানগরীর ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালানো হয়। এ তিনটি ওয়ার্ডের ২২টি পয়েন্টে অভিযান চলে। এর মধ্যে ১৩টি পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর ১৩টি পয়েন্টের মধ্যে ৮টি ও ১৫ অক্টোবর ৫০টি পয়েন্টের মধ্যে ১৩টি পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।’

এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ খান। এদিকে, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের ঘোষণায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেন চালকরা। সোমবার থেকে তাদের এ আন্দোলন শুরু হয়। বুধবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে তারা পায়ে চালানো রিকশার চলাচলে বাধা দেন। তারপরও নগরীতে ব্যাপকহারে পায়ে চালিত রিকশা চলাচল করতে দেখা যায়।

সাধারণ রিকশাচালকরা জানান, ‘পেটের দায়ে নেমেছি। এখন মেয়র ঘোষণায় দেওয়ায় ব্যাটারি খুলে রেখে রিকশা নিয়ে সড়কে নেমেছি। তারা বলেন, নেতারা তো আর চাল কিনে দেবে না। বসে থাকলে ঘরের লোকজন না খেয়ে থাকবে। এ কথা চিন্তা করেই ব্যাটারি খুলে রেখে ভোর থেকে সড়কে নেমে পড়েছি। তবে পথে পথে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।

দৌলতপুরের রিকশা মালিক-চালক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি শেখ শওকত আলী বলেন, ‘আমরা মেয়রের জন্য নির্বাচনে কাজ করেছি, মেয়র এখন আমাদের পেটে লাথি মারছে।

হাজী মহসিন রোড এলাকার রিকশাচালক কবীর হোসেন বলেন, ‘গ্যারেজ মালিক রিকশা থেকে মোটর ও ব্যাটারি খুলে দিয়েছে। অনেক দিন পর পায়ে রিকশা চালাতে কষ্ট হচ্ছে।’

মিস্ত্রিপাড়া এলাকার রিকশাচালক সাইদুল হক বলেন, ‘ইজিবাইকের জন্য যে নিয়ম দেওয়া হয়েছে, তা তারা মানছেন না। কিন্তু রিকশাচালকদের তা মানতে হচ্ছে।’

ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান শ্রমিক লীগ খুলনা মহানগরের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান বলেন, ”অভাবের তাড়নায় দু-একজন রিকশা চালাচ্ছেন। আমাদের দাবি না মানলে আমরা সব রিকশা বন্ধ করে দেবো। বুধবার মানববন্ধন করেছি। বৃহস্পতিবার নগর ভবনের সামনে অবস্থান করবো। শুক্রবার থেকে হাদিস পার্কে লাগাতার অনশন শুরু করা হবে।”

সোর্সঃ বাংলা ট্রিবিউন