মারাত্মক বিপর্যয়ের পথে বাংলাদেশ

প্রতিবেদক || সৈয়দ মেহেদী হাসান আলভী :

COVID 19 এর মারাত্মক কম্পনে কম্পিত সারা বিশ্ব। বাংলাদেশে ও লেগেছে এর ছোঁয়া। করোনা ভাইরাস নামক একধরনের আরএনএ ভাইরাসেট কারনে একধরনের মানুষের শ্বসনতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্থকারী এই সংক্রমণ ব্যধির সৃষ্টি হয়। সংক্রমিত ব্যাক্তির হাঁচি, কাশি বা শ্বাসতন্ত্র থেকে নির্গত তরলের মাধমে সুস্থ ব্যক্তিও এই ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। তাই সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে দুমাস ধরে চলছে সাধারণ ছুটি ও অঘোষিত লকডাউন। এর কারনে দেশের সকল স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত সহ সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে লকডাউন চলায় করোনা ভাইরাসের হটস্পট রাজধানী ঢকা ও নারায়ণগঞ্জের বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন বেকার। তাদের মধ্যে সিংহভাগই অন্য জেলা থেকে কাজ করতে আসা গার্মেন্টস কর্মী, কুলি, মুটে, রিক্সা চালক সহ আরো নানা পেশার মানুষ। দীর্ঘদিন বেকার থাকার কারনে তারা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাই সকলের ভিতর নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার প্রবনতা কাজ করে। নানা বিধিনিষেধ সত্বেও বেশ কয়েক দিন ধরে তাদের বাড়ি যাওয়া চিত্র ছিল চোখে পড়ার মতো। নানা উপায়ে তারা বাড়ি যাচ্ছিল। এমনকি গণপরিবহন না থাকায় অনেকে পায়ে হেঁটেই বাড়ি যাচ্ছিল। ফলে প্রয় সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। কিন্তু বর্তমানে ঈদের অাগ মূহুর্তে মানুষের বাড়ি ফেরার উপর যে কড়াকড়ি ছিল তা তুলে নেয়ায় হাজার হাজার মানুষ ব্যাক্তিগত গাড়ি, ট্রাক বা ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে ফিরছেন নিজ গ্রামে। অনেকে আবার এই সুযোগে ঘুরতেও যাচ্ছেন নিজ গ্রামের বাড়িতে। আর সাথে করে নিয়ে যাচ্ছেন বৈশ্বিক আতঙ্ক করোনা ভাইরাস। বাংলাদেশে এমনিতেই এখন কমিউনিটি সংক্রমণ চলছে। তার উপর এরব অসচেতন জনগনের কারনে সংক্রমণ আরো বৃদ্ধি পেলে যে অবস্থার সৃষ্টি হবে তা হবে অত্যন্ত করুন। এ বিষয়ে বাড়ি যাচ্ছেন এমন মানুষদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, “সরকার তো সুযোগ দিয়েছেই তবে সমস্যা কী?” আবার অনেক ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে বসবাস কারী কর্মীরা বলছেন,”দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় আমরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছি।
আবার মধ্যবিত্ত হওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকেও তেমন সহায়তা পাচ্ছি না।তাই বাধ্য হয়েই বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে।” বাড়ি ফেরত যাওয়ার উপর যে কড়াকড়ি ছিল তা শিথিল করলেও সরকার কাউকে অকারনে বাড়ি ফেরত না যেতে বার বার অনুরোধ করছে। এভাবে হঠাৎ কড়াকড়ি শিথিল করার ফলে ঘরমুখো মানুষের কারনে সংক্রমণ যে ভাবে বৃদ্ধি পাবে তা বাংলাদেশকে একটি মারাত্মক বিপর্যয়ের পথে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।