মেডিকেলের প্রশ্নফাঁস: সন্দেহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস

বারবার মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে বিশেষায়িত একটি ছাপাখানা থেকে। সরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ১৯৮৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ছাপাখানায় মেডিকেল ও ডেন্টালের প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়।

সিআইডি জানায়, গত ২০ জুলাই রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চক্রের ওই চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- জসিম উদ্দিন ভুইয়া মুন্নু, পারভেজ খান, জাকির হোসেন দীপু ও সামিউল জাফর সিটু। এ সময়ে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মূল হোতা জসিমের কাছ থেকে দুই কোটি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক এবং পারভেজের কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের নেতৃত্ব দেন সিআইডির সাইবার ক্রাইমের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমন কুমার দাস। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। এ ঘটনায় করা মামলায় ১২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় সিআইডি, যার মধ্যে গ্রেপ্তার ছিল ৪৭ জন। তাদের মধ্যে ৪৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলা তদন্তকালে ২০১৮ সালে একটি চক্রের সন্ধান পায় সিআইভি। গত ১৯ জুলাই পুলিশ এস এম সানোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডিকে জানান তিনি।

মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিতি ছিলেন সাইবার ক্রাইমের ডিআইজি মো. শাহ আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এতে জানানো হয়, এস এম সানোয়ার হোসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলামের তত্ত্বাবধায়নে একটি দল মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জসিম উদ্দিন ভুইয়া মুন্না, পারভেজ খান ও জাকির হাসান দিপুকে গ্রেপ্তার করে। আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছাপাখানা থেকে মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করে আসছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। এছাড়া অধিদপ্তরের ক্ষমতাবান কর্তাদের মদদে প্রেস থেকে বহু বছর ধরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করতেন মেশিনম্যান আবদুস সালাম। তার খালাতো ভাই জসিমের কাজ ছিল সারাদেশে প্রশ্ন ছড়িয়ে দেওয়া। এ জন্য একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ছিল তার। দেশব্যাপী চক্রটির প্রায় অর্ধশত সহযোগীর খোঁজ পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এদিকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় ২০ জুলাই এজাহারনামীয় ১৪ জনসহ অজ্ঞাত পরিচয় ১৫০-২০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে সিআইডি। ইতোমধ্যে মাস্টারমাইন্ড জসিম উদ্দিন ভূইয়াসহ চক্রের ১১ সদস্য সিআইডির সাইবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।