লজ্জায় স্কুল ছাড়ল নবম শ্রেণির ছাএী, মামলা!

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম | সাখাওয়াত ফারহান ||

নবম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রী বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কয়েকজন বখাটে জোর করে আপত্তিকর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও এলাকায় জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টারিং করার অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে আইনি সহায়তা চেয়ে ছাত্রীর মা বাদি হয়ে গত ২৮ আগস্ট রাতে লামা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মামুন নামের এক বখাটের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত ২২ আগস্ট বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বড় ছনখোলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। স্কুল ছাত্রীর মা মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার মেয়ে চকরিয়া উপজেলার রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ে। গত এক সপ্তাহ আগে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় পথরুদ্ধ করে আমাদের এলাকার বড় ছনখোলা পাড়ার জাফর আলমের ছেলে মো. মামুন (২৭) আমার মেয়েকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে ছবি তুলে। এ সময় আমার মেয়ে বাধা দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিলে সে ভয় পেয়ে যায়। পরে ছবিগুলো দিয়ে আমার মেয়েকে জিম্মি করার চেষ্টা করে মামুন। এ ঘটনায় আমার মেয়ে ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিলে বখাটে মামুনসহ তার সহযোগীরা ছবিগুলো রঙ্গিন পোস্টারিং করে এলাকার জন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লাগিয়ে দেয়। এছাড়া বখাটেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইমু আইডি থেকে ছবিগুলো পোস্ট করে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় প্রথমে আমাদের ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুর রহিমকে বিচার দিই। ওয়ার্ড মেম্বার ঘটনাটি নিয়ে বৈঠকের চেষ্টা করলে বখাটে মামুনের বাবা-মা বৈঠকে না বসে এড়িয়ে যায়। পরে আমি গত ২৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টায় বখাটে মামুনসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে লামা থানায় অভিযোগ করেছি’।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য মো. আব্দুর রহিম বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে আমার এলাকার এক নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে ছবি তুলে ফেসবুক, ইমুতে ছেড়ে দেয় বখাটে কয়েকজন যুবক। আমার ওয়ার্ডের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছবিগুলো রঙ্গিন পোস্টারিং করে লাগিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ঐ স্কুল ছাত্রীর মা ও তার বাবা গত ২৭ আগস্ট বিচার নিয়ে এসেছিল। পরে এ ঘটনায় দু’পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করি। অভিযুক্ত মামুনের বাবা ও মা বৈঠকে মামুনকে উপস্থিত না করায় এ ব্যাপারে মামলা করার পরামর্শ দিই। বুধবার রাতে তারা লামা থানায় গিয়ে অভিযোগ দেয় স্কুল ছাত্রীর মা।

এ ব্যাপারে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, স্কুল ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি তোলার ঘটনায় লামা থানায় মামলা হয়েছে। তবে, এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের ধরার আগ পর্যন্ত কাউকে তথ্য দিচ্ছি না। আসামি ধরার পর সাংবাদিকদের তথ্য দেয়া হবে।