সকলের অগোচরে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন বিপদ

প্রতিবেদক || সৈয়দ মেহেদী হাসান আলভী :

সমগ্র বিশ্বের মতো দেশেও চলছে COVID 19 নামক মহামারী। শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণকারী করোনা ভাইরাস নামক একধরনের আরএনএ ভাইরাস থেকে এই রোগের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে এখন COVID 19 এর কমিউনিটি সংক্রমণ চলছে। IEDCR এর তথ্যমতে বাংলাদেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় দেড় হাজার লোক করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত হচ্ছে। এই সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার ব্যপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবুও কিছু ক্ষেত্রে সরকার ও জনগনের অসচেতনতার কারনে বেড়েই চলেছে সংক্রমণ। মৃত্যুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে রেকর্ড সংখ্যক। এই মহাদূর্যোগ মোকাবেলায় সরকার যখন তার সম্পূর্ণ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করছে তখনই সকলের অগোচরে সৃষ্টি হচ্ছে ডেঙ্গু নামক নতুন বিপদ। ডেঙ্গু একটি ভাইরাসঘটিত রোগ। ফ্লাভিভাইরাস বা ডেঙ্গী ভাইরাস নামক একধরনের আরএনএ ভাইরাসের কারনে মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। যার কারনে প্রাননাশের ঘটনাও ঘটে। এডিস ইজিপটাই ও এডিস এলবোপিকটাস নামক মশকী ডেঙ্গী ভাইরাসের বাহক। কোথাও জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশকীর প্রজনন স্থল বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারনে লকডাউন চলায় অধিকাংশ অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ বন্ধ। আবার গত একমাস ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় এসব যায়গার ছাদে, বারান্দায়, মাঠে পানি জমে আছে। আবার শখের বশে অনেকে নিজেদের বাসার সামনে টবে ফুল গাছ লাগিয়েছে যাতে বৃষ্টির অসতর্কতার কারনে পানি জমে আছে। এসব জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে সহজেই এডিস মশকী বিস্তার লাভ করতে পারে। ফলে সকলের অগোচরেই সৃষ্টি হচ্ছে নতুন সংকটের। সাধারণ জনগণের মতে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা পাশাপাশি ডেঙ্গী ভাইরাসের বাহক এডিস মশকীর বিস্তার রোধেও সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয় COVID 19 মহামারীর কারনে জনবলে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও তারা তাদের সকল কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে পূর্ণ শক্তিতে এডিস মশকী নিধন ও এর প্রজনন স্থল ধ্বংসের কাজ করে যাচ্ছেন। তারা আরো বলেন জনগণ সচেতন হলেই এডিস মশকীর বিস্তার রোধে সম্ভব। গত বছর সারাদেশে ডেঙ্গু ভাইরাস মারাত্মক ভাবে বিস্তার লাভ করেছিল। এবার COVID 19 মহামারীর ভেতরেও যদি একই অবস্থা সৃষ্টি হয় তবে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হবে তা মোকাবেলায় যথেষ্ট বেগ পেতে হতে পারে সরকারকে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।