সড়ক নিরাপত্তায় দেশব্যাপী মহাসড়কে বসবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্পিড সেন্সর!!

প্রতিবেদক|| মোঃ হাসিবুর রহমান:

ইমেজ ক্যাপশন প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো দেশে সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশের যেকোনো মহাসড়ক ধরে দেশের কোন জেলায় যাচ্ছেন এবং হঠাৎ লম্বা যানজটে পড়লেন যার কারণ আপনি জানেন না।অথবা কোন দুর্ঘটনা বা উন্নয়ন কাজের জন্য হঠাৎ যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এই ধরনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে প্রায়শই ঘটে থাকে যার জন্য ভুগতে হয় অনেকখানিই ।পৌছাতে সময় লাগে প্রচুর।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে সড়কে অপ্রত্যাশিত কোন ঘটনা সম্পর্কে আগেভাগে জানতে বা সড়কে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থা থাকে যার সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করে পুলিশ, উদ্ধারকর্মী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবাই।

বাংলাদেশেও এরকম একটি ব্যবস্থা চালু করার জন্য একটি পাইলট প্রকল্পের ব্যাপারে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।প্রকল্পের নাম-“ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম”।

এই প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল করিম।তিনি বলছেন, “এর মূল উদ্দেশ্য হল দেশের সকল সড়ক এবং মহাসড়ক প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা যাতে কোন ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে সেটি জানা ও দেখা যায় এবং ব্যবস্থা নেয়া যায়।” তাই বলে এক দেশে প্রায় ৬০ কোটি সিসিটিভি ক্যামেরা!!

বাংলাদেশে মহাসড়কে অপ্রত্যাশিত কোন ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পৌছাতে অনেক সময় লেগে যায়।
তিনি বলছেন, “যেমন এখন কী হচ্ছে? হাইওয়েতে একটা দুর্ঘটনা ঘটলো। এটার খবর নিকটবর্তী থানা, হাইওয়ে পুলিশ বা হাসপাতালে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে। এর ফলে দুটো জিনিস ঘটে। একটি হল দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের চিকিৎসায় দেরি হয় এবং ওই দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে বিশাল যানজট সৃষ্টি হয়ে যায়। একটা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যদি নজরদারি চলে তাহলে সাথে সাথে ঘটনা জানা যাবে ও ব্যবস্থা নেয়া যাবে”।

প্রকল্পটি কাজ করবে,যেমন- সারাদেশের মহাসড়কজুড়ে হাজার হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। গাড়ির গতি পরীক্ষার জন্য থাকবে গতি নির্ধারক সেন্সর-যুক্ত ক্যামেরা।

সেগুলো থেকে যে ছবি ও তথ্য আসবে তা কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় পর্যবেক্ষণ হবে। নানা যায়গায় বার্তা সম্বলিত ডিজিটাল বোর্ড বসানো হবে।

হাইওয়ে পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ সবার পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।যে যার মতো ঘটনাস্থলে চলে যাবে। যার যা করার কথা সে সেই দায়িত্ব পালন করবে।

সড়ক নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ গতি নির্ধারক সেন্সর-যুক্ত ক্যামেরা যা জানতে পারবে যেমন কোন গাড়ি কত গতিতে অতিক্রম করছে ক্যামেরার বার্তা ছবিসহ চলে যাবে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে।

মি. করিম বলছেন, “যেমন কোন গাড়িটা কোনদিকে যাচ্ছে, কত গতিতে যাচ্ছে, আইন ভঙ্গ করছে কিনা, প্রতি ঘণ্টায় কতগুলো গাড়ি একটি এলাকা দিয়ে গেলো সেসব তথ্য রেকর্ড হতে থাকবে। যানবাহন ডিটেকশন সিস্টেম থাকবে। অর্থাৎ কোন ধরনের গাড়ি, তার আকার ও তা কত লোক বহন করছে সেটিও ডিটেক্ট করা যাবে।”

মহাসড়কে গাড়ির গতি জানার জন্য মাঝেমাঝে স্পিডগান ব্যবহার করা হয়।উন্নত বিশ্বে লাইসেন্স নম্বরের ছবিসহ জরিমানার চিঠি পাঠানো হয় চালকদের। সেরকম ব্যবস্থা এখানে করার কথা ভাবা হচ্ছে যাতে করে ভবিষ্যতে আইন ভঙ্গ করার বিষয়ে চালকরা সাবধান হন।

পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের এসব তথ্য হাইওয়ে পুলিশও ব্যবহার করবে মহাসড়কে নানা ধরনের অপরাধ দমনে। মি. করিম বলছেন, “একই ক্যামেরা সব ধরনের ঘটনাকে ডিটেক্ট করতে পারছে। যা অপরাধ দমনে ব্যবহার করা যাবে।”

সড়কে ডিজিটাল বোর্ডে নানা ধরনের অগ্রিম বার্তা দেয়া হবে। মি. করিম বলছেন,” সামনে যানজট আছে কিনা, দুর্ঘটনা হয়েছে কিনা, গাড়ির গতি কমানোর, বিকল্প সড়ক ব্যবহারের নির্দেশনা আছে কিনা, গুগল ম্যাপের মতো সবচেয়ে ভালো সড়ক সম্পর্কে তথ্য, পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় এমনকি আবহাওয়া সম্পর্কিত তথ্যও থাকবে।সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে যে তথ্য আসবে সেটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে অগ্রিম বার্তা হিসেবে ডিজিটাল বোর্ডে চলে আসবে।এসব বিষয় জানাতে ডিজিটাল বোর্ড ছাড়াও মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে”।

সরকারের পক্ষ থেকে আপাতত যা পরিকল্পনা করা হচ্ছে এই ব্যাপারে একটি দীর্ঘমেয়াদী “মাল্টি-প্ল্যান” নিয়ে ভাবলেও আপাতত একটি পাইলট প্রকল্প চালু করার চিন্তা করা হচ্ছে।

ঢাকা থেকে দাউদকান্দির দিকে যেতে চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার জুড়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই ব্যবস্থা প্রথম চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে।সেটির জন্য বাংলাদেশ সরকার কোরিয়ান সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে। কোরিয়া থেকে একটি দল একবার এসে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করে ইতিবাচক উত্তর দিয়েছে।

কোরিয়ান সরকারের অনুদানে হবে এই পাইলট প্রকল্প যার জন্য আপাতত ৯০ কোটি ডলার দিচ্ছে তারা।প্রযুক্তি ও প্রকৌশলগত দিক দিয়েও তারাই সহায়তা করবে। এব্যাপারে আরও কথা বলতে ২৭তারিখ( রবিবার) দক্ষিন কোরিয়া থেকে আর একটি দল ঢাকায় আসছে।