হাসিনা-ট্রাম্প এক টেবিলে, শুভেচ্ছা বিনিময়

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, একই টেবিলে বসে মধ্যাহ্নভোজও করেছেন তারা।

জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বিশ্ব নেতারা এখন নিউইয়র্কে রয়েছেন। সম্মেলনে আসা বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে মঙ্গলবার দুপুরে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

সেখানেই শেখ হাসিনা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুভেচ্ছা

বিনিময় হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জের মধ্যাহ্নভোজে বিভিন্ন নেতারা পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। একসময় ট্রাম্প এগিয়ে আসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তাদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলাপ করতে দেখা যায়। এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে এই ফাইল হস্তান্তর করতে দেখা যায় শেখ হাসিনাকে। কিন্তু ফাইলে কী আছে তা জানানো হয়নি।

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেলসহ অন্য নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়।

পরে জাতিসংঘ মহাসচিব নিজের টেবিলে শেখ হাসিনাকে নিয়ে বসেন। আন্তোনিও গুতেরেসের টেবিলে আরও বসেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, আঙ্গেলা মের্কেল।

পরে সম্মেলনে আসা সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সস্মানে রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজন করেন নৈশভোজের।

লোটে নিউইয়র্ক প্যালেসের ওই নৈশভোজেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দেন বলে জানান প্রেস সচিব।

উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জের মুখে

ফেলছে রোহিঙ্গা সংকট

এদিকে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের কারণে সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার নিউইয়র্কে মার্কিন থিংক ট্যাংক ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’ আয়োজিত এক সংলাপে তিনি আবারও বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার, এ সমস্যার সমাধানও সেখানেই রয়েছে।

‘এ কনভারসেশন উইথ প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা’ শীর্ষক এ সংলাপে তিনি বলেন, “দ্রম্নত ও শান্তিপূর্ণভাবে আমরা এ সমস্যার (রোহিঙ্গা) সমাধান চাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসে শেষবার তিনি এসেছিলেন ১৯ বছর আগে। তারপর বাংলাদেশ নানা দিক দিয়ে নানভাবে বদলে গেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে অভূতপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে তার বিবরণ তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট আমাদের জন্য উদ্বেগজনক চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে। পরিকল্পিত নৃশংসতার মধ্য দিয়ে মিয়ানমার সরকার তাদের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের নিধন করছে। তারা (রোহিঙ্গা) সহিংসতা ও নৃশংসতা থেকে পালাতে দেশ ছেড়েছে। আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের আশ্রয় দিয়েছি।’

বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে, যাদের মধ্যে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা এসেছে ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে নতুন করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন শুরু হওয়ার পর। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

মিয়ানমার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই দফা চেষ্টার পরও রোহিঙ্গাদের কাউকে তাদের ভিটেমাটিতে ফেরত পাঠানো যায়নি।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে মিয়ানমানরকে বাধ্য করার ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কোটি মানুষের ভারতে আশ্রয় নেওয়ার কথা স্মরণ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর ছোট বোন শেখ রেহানাসহ নিজের নির্বাসিত জীবনের কথাও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন।

সেই মানবিক তাড়না থেকেই রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়া হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সাধ্যমতো তাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।

এ সংকটের গভীরতা বুঝতে সবাইকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বিশ্বাস, ক্যাম্পে গিয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা শুনলে আপনাদের বুকও কেঁপে উঠবে। ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার চিত্র আপনাদের হৃদয় নাড়িয়ে দেবে। আপনারা চাইবেন খুব দ্রম্নত যেন তাদের (রোহিঙ্গা) এই কষ্টের সমাপ্তি হয়।’

রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথা শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।