COVID 19 ও বাংলাদেশ

প্রতিবেদক || সৈয়দ মেহেদী হাসান আলভী :

COVID 19 এই আধুনিক বিশ্বকে সম্পুর্ণ রূপে স্থবির করে দেওয়া এক মহামারীর নাম। করোনা ভাইরাস নামক মানব বাহিত এক ধরনের RNA ভাইরাসের কারণে মানুষ এই রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়। হাঁচি, কাশি বা শ্বাসতন্ত্র থেকে নির্গত তরলের মাধমে এই ভাইরাস এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে ছড়িয়ে পড়ে। এটি মানুষের শ্বাসতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। যদিও এর উৎপত্তি নিয়ে নানা মতভেদ রয়েছে তবে সকলে এ বিষয়ে একমত যে চীনের উহান শহর থেকেই মহামারী রূপে এই ভাইরাস ঘটিত রোগটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এই মহামারীতে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে আক্রান্ত ও মৃত মানুষের সংখ্যা হুহু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশও COVIDE19 মহামারীর কম্পনে কম্পিত। বাংলাদেশে যাতে করোনা ভাইরাস না ঢুকতে পারে সেই জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রথম থেকেই নানা ধরনের ব্যাবস্থা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু তবুও বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করে। ধারণা করা হয় ইতালি ফেরত কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিদের দ্বারাই বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। এই ভাইরাসের কমিউনিটি সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য বাংলাদেশে ২৬শে মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। স্থগিত করে দেওয়া হয় উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের সকল পরীক্ষাও। ঘোষণার সাথে সাথে কলকারখানা, অফিস-আদালত সহ সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এসব যায়গায় কর্মরত মানুষজন নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরে যেতে শুরু করে। এদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষ ইতি মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় তারা সাথে করে এই ভাইরাস ও বহন করে নিয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ। বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে সরকার সংক্রমিত এলাকা সমূহ লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসে। সীমিত করে দেওয়া হয় জনসাধারণের চলাচল। বন্ধ করে দেওয়া হয় গণপরিবহন। মসজিদে মুসল্লীদের আগমনও সীমিত করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে মাঠপর্যায়ে মোতায়ন করা হয়। এত বিধিনিষেধ সত্বেও কিছু মানুষ জীবিকার তাগিদে বাহিরে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়। ফলে ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। শুরু হয় কমিউনিটি সংক্রমণ। প্রায় দুই মাস এক ধরনের গৃহ বন্দি অবস্থায় থাকার কারনে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক দিন আনে দিন খায এমন মানুষ মারাত্মক ভাবে অর্থ সংকটে পড়ে যায়। অপরদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতিও মারাত্মক বিপর্যয়ের পড়ে। সকল দিক বিবেচনা করে সরকার কিছু বিধিনিষেধ তুলে দেয় এবং সীমিত পরিসরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করার অনুমতি প্রদান করে। কিন্তু বেশ কিছু অপরিকল্পিত পদক্ষেপ ও জনগনের অসচেতনতার কারনে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন গড়ে দৈনিক এক হাজার লোক করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে। জনগণের এক দল মনে করছেন লকডাউন তুলে নেয়া এখন উচিৎ হবে না। কারন এর ফলে যে পরিমান সংক্রমণ ঘটবে তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। আবার অন্য দল মনে করছেন লকডাউন তুলে না নিলে অনেক মানুষ না খেয়েই মারা যাবে। এ বিষয়ে বলেন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও মতভেদ লক্ষ করা যায়। তবে সরকার বলছে যদি অবস্থা খারাপ হয় তবে তারা আবারও বিধিনিষেধ কড়া করবেন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি ঘোষণা সকলকে একটু অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করে করোনা ভাইরাস হয়তো স্থানীয় ভাইরাস হিসেবে থেকে যেতে পারে। মূলত অনিশ্চয়তার মধ্যেই কাটছে বাংলাদেশের মানুষের জীবন।