বই রিভিউ: সাতকাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক।। ইয়ামিন ইসলাম তাবিন:

সাতকাহনলেখক: সমরেশ মজুমদার

চা বাগানের কোয়ার্টার এ থাকা একটি মেয়ে।বাকি চার পাঁচজন সমবয়সিদের মতো দীপাবলির ও শৈশব শুরু হয় দুরন্তপায়।সকালে চাপাফুল তোলা, স্কুলে যাওয়া, বন্ধুরা মিলে মাছ ধরতে যাওয়া, দেরি করে বাড়ি ফিরে মায়ের বকুনি শোনা কিন্তু বাবার আদর পাওয়া। কিন্তু সবকিছু ধূসর হলে উঠে যখন ১০ বছরে তার বিয়ে হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হোক কিংবা দিপার ভালোর জন্যেই হোক ৭২ ঘণ্টার মাঝে তার স্বামী মারা যায়। এর পর নতুন এক দুনিয়ায় চলে আসা।বিধবা দের মতো জীবন চালানোর জন্যে তার দাদু তাকে বাধ্য করে। ঘটনাক্রমে জানতে পারে যাদের এতদিন বাবা-মা জেনে এসেছে তারাও তার বাবা-মা নন। শ্বশুড়বাড়ির সম্পত্তি ভাগ এর সময় বুঝতে পারে দুনিয়াতে তার আপন বলতে কাউকেই বিশ্বাস করা যায়না। সবকিছু পিছনে ফেলে নতুন করে বাঁচতে শিখা ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্যেই বেঁচে থাকা। বন্ধু-বান্ধব, নতুন সম্পর্ক, বিভিন্ন ধরনের মানুষ, বিশ্বাস,অবিশ্বাস,হারানোর বেদনা -সবকিছু পার করে জীবনে এগোতে থাকে দীপাবলি। লিঙ্গ-বৈষম্য দূরে সরিয়ে নিজের পায়ে দাড়ানোই যার একমাত্র লক্ষ্য, সে কি পারবে_সব বাধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে? নাকি হোচঁট খেয়ে আটকে যাবে সমাজের তৈরী করা বিধি-নিষেধের বেড়া জালে………..

পুরুষ তান্ত্রিক সমাজে নিজেকে মানিয়ে নেয়া ও অন্যায় এ কখনো আপোষ না করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মত দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেন লেখক।একটা মেয়ের আত্মসম্মান যে শুধুমাত্র ‘মেয়ে’ হিসেবেই কতখানি থাকতে পারে, কতখানি থাকা উচিত-তা খুব গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তৎসময়ের কোন উপন্যাসে এতটা অাধুনিক চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন সত্যিই অবাক করার মতো। একজন মেয়েকে তার আত্মসম্মান বজায় রেখে জিবনে কোন কিছু অর্জন করতে যে সমাজের কত চড়াই-উৎরাই পার করতে হয়-তা অত্যান্ত সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে উপন্যাসটির মাধ্যমে।