ইরফান খানের পর চলে গেলেন ঋষি কাপুর ও।

প্রতিবেদক || মুজাহিদ হাসানঃ

বৃহস্পতিবার সকালে চলে গেলেন ঋষি কাপূর। শ্বাসকষ্ট নিয়ে মুম্বাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে তাঁর বড় ছেলে অভিনেতা রণধীর কাপূর তাঁর মৃত্যুর খবর জানান। দীর্ঘ দিন ধরেই ক্যান্সারে ভুগছিলেন ঋষি। বিদেশে একটানা চিকিৎসার পর গত বছর দেশে ফেরেন তিনি। কিন্তু মাঝেমধ্যেই সংক্রমণ বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। সংবাদ সংস্থার খবর, বুধবার সকালে শ্বাসকষ্ট বাড়ায় এইচ এন এন রিলায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। বৃহস্পতিবার সকালে ৬৭ বছর বয়সে মৃত্যু হয় তাঁর। ইরফান খানের পরেই ঋষি কাপূর, একের পর এক মৃত্যুর খবরে দিশাহারা বলিউড চলচ্চিত্র জগৎ।

রাজ কাপূর ঘরানার এই উজ্জ্বল উত্তরসূরি ‘মেরা নাম জোকার’ ছবিতে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন, ১৯৭০ সালে। নিতান্তই শিশু তিনি তখন। কিন্তু প্রথম আত্মপ্রকাশেই জাতীয় পুরস্কার তাঁর অভিনয় জীবনের পথ তৈরিতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। ১৯৭৩ এ একেবারেই ভিন্ন ধারায় তার আবির্ভাব, ‘ববি’। ঝড় তুলে দিয়েছিলেন ঋষি। রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবে যৌবন তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে আজীবন।

তাঁর শেষ ছবি হয়ে রইল ‘১০২ নটআউট’। সেই ছবিতে সহ-অভিনেতা ছিলেন অমিতাভ বচ্চন। যিনি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে বলেছেন, ‘‘আই অ্যাম ডেসট্রয়েড।’’ ঋষি কাপূরের চলে যাওয়া তাকে খুব বিষণ্ণ করে তুলেছে। ঋষির আত্মজীবনী ‘খুল্লাম খুল্লা: ঋষি কাপূর আনসেন্সরড’ বিশ্ব চলচ্চিত্রে এক ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থেকে গেল আজ। তিনি সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, তিনি একটি হলিউড ছবি ‘ইনটার্ন’-এর রিমেকের কথা ভাবছেন। যেখানে তিনি দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলেন। তার এই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।

ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ ধরা পড়ার পরেও তাকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে হেসেখেলেই বাকি জীবনটা কাটাতে চেয়েছিলেন রাজ কাপূরের দ্বিতীয় পুত্র ঋষি। মৃত্যু প্রসঙ্গ এলে সহাস্যে বলতেন, ‘‘আমি আমার হাসি নিয়ে মানুষের কাছে বেঁচে থাকতে চাই। কান্না আমার পছন্দ না।’’

হুল্লোড়ে সদাহাস্যময় এই অভিনেতা যদিও প্রয়োজনে স্পষ্ট এবং রূঢ় কথা বলতে কখনও পিছপা হননি। বিভিন্ন সময়ে করা তার সেই টুইটগুলিই তার এই চরিত্রের এই দিকটির প্রমাণ। ২০১৮ তে ধরা পড়ে ক্যান্সার। বিদেশে চিকিৎসা চলাকালীন বার বার বাড়ি ফেরার কথা বলতেন তিনি। ১০ সেপ্টেম্বর মুম্বাই ফিরে টুইট করেন, ‘‘১১ মাস ১১ দিন পর বাড়ি ফিরলাম। সবাইকে ধন্যবাদ।’’

আর ঋষি রেখে গেলেন শতাধিক ছবি। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ‘ববি’, ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’, ‘লায়লা মজনু’, ‘রফু চক্কর’, ‘সরগম’, ‘কর্জ’, ‘বোল রাধা বোল’ ইত্যাদি। জীবনের শেষে এসে কাজ করেছেন ইমরান হাসমির ‘দ্য বডি’ ছবিতে। শুধু জীবনের ক্ষেত্রেই নয়, নীতুর সঙ্গে সেলুলয়েডে ১২টি ছবিতে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন চিন্টু কপূর।

গতকালই চলে গেলেন ইরফান খান। তাঁর মৃত্যু কোথাও যেন এক জায়গায় নিয়ে এল সাধারণ মানুষ, রাজনীতিবিদ ও চলচ্চিত্র তারকাদের। যারা ইরফানের সঙ্গে কাজ করেছেন, যারা তাকে দেখেছেন, যারা তাকে কোনও দিন দেখেননি, সবার মৃত্যুশোক এক। আজ সেই রাস্তায় ঋষি কপূর ও। এই সাম্রাজ্যের কোথাও যেন ইরফানের সঙ্গেও জুড়ে গেলেন তিনি। ‘দি-ডে’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তারা।

এবার বোধহয় ‘দি-ডে’ ছবির ওয়ালি খান ও ইকবাল শেঠ মুখোমুখি হবেন এক অদেখা সেলুলয়েডে।