ঋষি আর ইরফান দুই বিপরীত মেরুর স্টার-অভিনেতা।

প্রতিবেদক || নোমান হোসাইনঃ

তাদের চলে যাওয়া যেন বিধ্বস্ত করে দিয়ে গিয়েছে শর্মিলা ঠাকুরকে। এত দিনের দুই সহকর্মী, যাঁরা এক রকম পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে গিয়েছিলেন, সেই ঋষি কপূর ও ইরফান খানের অভিনয় নিয়ে নিজের অনুভূতি এ ভাবেই উজাড় করে দিলেন অভিনেত্রী শর্মিলা।

শর্মিলা বলেন, “খ্যাতির শিখরে পৌঁছনো, সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা আমার অত্যন্ত প্রিয় দুই অভিনেতা-স্টার চলে গেলেন। পিছনে শুধু নিজেদের পরিবারকেই রেখে গেলেন তা নয়, রেখে গেলেন গুণমুগ্ধ বিশাল এক পরিবারকে।”

লকডাউনের সময় দুই অভিনেতার চলে যাওয়া যেন আরও মর্মান্তিক। তার আফসোস: “খুব খারাপ লাগছে এই ভেবে যে এমন দুই অভিনেতাকে শেষ বারের মতো বিদায় জানানোর সুযোগও পেলাম না। তাদের চলে যাওয়া আমাকে বিধ্বস্ত করে দিয়ে গেল। এই দুই মহান অভিনেতা যে কত বড় শূন্যতা তৈরি করে গেলেন তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না।

দুই অভিনেতার অভিনয় প্রসঙ্গে শর্মিলা বলেন, “অভিনয়ের ক্ষেত্রে দু’জনের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকলেও দু’জনেই যেন ঈশ্বর-প্রদত্ত প্রতিভার অধিকারী। ঋষি কপূর প্রসঙ্গে শর্মিলা বলেন, “এমন সূক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে অভিনয় ফুটিয়ে তুলতেন যে মন্ত্রমুগ্ধ হওয়া ছাড়া উপায় থাকত না।”

ইরফান প্রসঙ্গে শর্মিলা লিখেছেন, “তিনি যেন নিজেকে লুকিয়ে রাখার ওস্তাদ। এমন ভাবলেশহীন, দৃঢ়, প্রাণোচ্ছ্বল, অথচ ভীষণ স্বাভাবিক অভিনয় করতেন। তা একদম ঋষির থেকে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করত।

গত বুধবার, মাত্র ৫৩ বছর বয়সে নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমারের কারণে মারা যান ইরফান খান। তার ঠিক পরের দিনই বলিউডে আর এক ধাক্কা ঋষি কপূরের মৃত্যু সংবাদ। ৬৭ বছর বয়সে লিউকোমিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন ঋষি।