সিফাতুল ইসলাম :

দক্ষিণ আফ্রিকা অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দল হিসেবে ইতিহাসে প্রথমবারের মত ফাইনালে বাংলাদেশী যুবারা। হাতছানি দিচ্ছে আরো একটি সপ্নের। আর বিজয়ের দিনের শুরুটাও ছিল বাংলাদেশের পক্ষে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পটসেফস্ট্রমের সেনউইস পার্কে এদিন টসে জিতে নল করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশী দলপতি আকবর আলি। ফলে টসে হেরে ব্যাট করতে নামতে হয় নিউজিল্যান্ডের। টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্তটাকে সঠিক করার জন্যই হয়ত এদিন শুরু থেকে মাঠে রাজত্ব শুরু করে বাংলাদেশী বোলাররা। দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে শামিমের ঘূর্ণিতে তানজিদ এর কাছে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান কিউই ওপেনার রেস মারিও। এরপর আরো আঁটোসাঁটো বোলিং শুরু করে বাংলাদেশী বোলাররা। শামিম-রকিবুল-মুরাদ দের ঘূর্ণির সাথে সাকিব ও শরিফুল এর গতিতে দিশেহারা হয়ে পরে কিউই ব্যাটিং লাইন আপ। শতরান পূর্ণ হবার আগেই পতন ঘটে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারের ৪ উইকেট। পঞ্চম উইকেটে ৬৭ রানের জুটি হলেও শরিফুলের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পরে ফিরে যায় নিক লিডস্টোন। এরপর আর কোন জুটি হতে দেয়নি বাংলাদেশী বোলাররা। এতে করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ২১১ রানের পুঁজি পায় নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব ১৯ দল। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৭৫ রান করেন গ্রীনাল।
বাংলাদেশের হয়ে ৩ টি উইকেট নেন শরিফুল এবং দুটি করে উইকেট নেন শামিম ও মুরাদ।
জবাবে ২১২ রানের সহজ লক্ষে ব্যাট করতে নেমে ৫ম ওভারে দলীয় ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দল। এরপর মাত্র ৯ রানের ব্যাবধানেই দ্বিতীয় উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হলেও তৃতীয় উইকেটে হৃদয়-মাহমুদুলের ৬৮ রানের জুটিতে ঘুরে দাড়ায় বাংলাদেশ। ১০০ রানে হৃদয় ফিরে গেলে চতুর্থ উইকেটে শাহাদাতকে নিয়ে ১০১ রানের জুটি গড়েন মাহমুদুল। এই জুটি ভাঙ্গে শতরানে মাহমুদুল ফিরে যাবার পর। বিশ্বকাপের এই আসরে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান ফিরে যান ১০০ রানে। ১২৭ বলের তার এই ইনিংস নিশ্চিত করে দলের জয়ের। ততক্ষণে শুধু বাকি ছিল জয়ের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ৫ম উইকেটে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন অধিনায়ক নিজে।এতে করে ৩৫ বল হাতে রেখেই লক্ষে পৌঁছে যায় বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব ১৯ দল। আর এইজয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মত ফাইনালে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচজয়ী শতরান করে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন মাহমুদুল হাসান।