চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রীর আত্নহত্যা ; কথিত প্রেমিক লিডার্স স্কুলের ১০ শ্রেনীর ছাত্র।

নাঈম হাসান।।নিজস্ব প্রতিবেদক।।কুমিল্লা।

নগরীর বায়েজিদ থানাধিন এলাকায় ফাহমিদা হাসান নামের ৯ম শ্রেণী পড়ুয়া একছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে৷ এই ঘটনার নিহতের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ কথিত এক প্রেমিককে আটক করেছে৷ নিহত ফাহমিদা চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলো৷

থানার এস,আই রেজাউল নবপ্রভাতকে জানান, মেয়ের ফুফুর দাবী, আজ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে ফাহমিদা তার বাসার একটি কক্ষের জানালার গ্রীলের সাথে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। সকালে ফাহমিদা নাস্তার কথা বলে কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়৷ অনেক্ষন দরজা না খোলায় পরে আশাপাশের প্রতিবেশিদের সহায়তায় রুমের দরজা খুলে ফাহমিদাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থা থেকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন বলে জানান এস আই রেজাউল৷ পরে লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে আজই লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।

এই ঘটনায় নিহতের ফুফুর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বায়েজিদ থানার পুলিশ থানাধিন অক্সিজেন কয়লার ঘর এলাকায় অবস্থিত রিডার্স স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণীর ছাত্র আলতাফ মনিরকে আটক করেছে বলে জানান বায়েজিদ থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার৷ অভিযোগে থেকে জানা যায়, নিহত ফাহমিদার সাথে মনিরের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো৷ গতকাল (১৩ অক্টোবর) তাদের দেখা করা কথা ছিলো৷ দেখা করার স্থানে ফাহমিদা আগে পৌছলেও মনির আসতে বিলম্ব হয়৷ এই সময় উক্তস্থানে ফাহমিদা তার পূর্ব পরিচিত আরেক বন্ধুর সাথে কথা বলছিলো ৷ তখন সেখানে মনির উপস্থিত হয়ে অন্যজনের সাথে ফাহমিদাকে কথা বলতে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে যায় এবং মনির সেখানেই ফাহমিদাকে প্রচন্ড বকাঝকা করার পাশাপাশি চড় থাপ্পর মারে। মূলত সেই অপমানের কারণে ফাহমিদা আত্মহত্যা করেছে মর্মে অভিযোগ করেছে তার ফুফু৷

এদিকে নিহতের সহপাঠিদের সূত্রে জানা গেছে, ছোট বেলাতে ফাহমিদার বাবা-মা ডিভোর্স হয়ে যায়৷ এরপর তারা আলাদা আলাদা ভাবে নতুন সংসার শুরু করলে সেখানে স্থান মেলেনি ফাহমিদার৷ সর্বশেষ ফাহমিদা তার ফুফুর বাসাতেই বাসবাস করতো৷ সূত্রটির দাবী মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মেয়ের বাবা না এলেও মেয়ের মা অল্প সময়ের জন্যে মেয়ের লাশ দেখতে এলেও মৃত্যুর কারণ বা মামলা নিয়ে কিছু না বলে চলে যায়৷ মেয়ের এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবি জানায়, গতকাল ফাহমিদার সামনেই তার সাবেক ও বর্তমান প্রেমিক মুখোমুখি বিবাদের জড়ালে সংবাদ পেয়ে ফাহমিদার ফুফু সাখানে হাজির হয়ে তাকে মারধর করা হয়েছিলো। তবে বায়েজিদ থানার ওসি এখনই এই বিষয়ে কোন মন্তব্য না করলেও, তদন্তে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান৷