দিল্লিতে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে শান্তি ফিরিয়েছে পুলিশ, সংসদে সাফাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের।

প্রতিবেদক || মুজাহিদ হাসানঃ

গত ফেব্রুয়ারিতে হিংসার আগুনে দীর্ঘ চারদিন ধরে জ্বলেছে উত্তর–পূর্ব দিল্লি। হিংসায় মারা গিয়েছেন ৫৩ জন। আহত ৩০০–রও বেশি। এই অবস্থায় বারংবার বিরোধীরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বুধবার সংসদে দিল্লি হিংসা নিয়ে বক্তব্য রাখলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনমিত শাহ। কিন্তু যেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে শাহের মুখে শোনা গেল ভূয়সী প্রশংসা। সংসদে তুমুল হইচইয়ের মাঝেই এদিন শাহ বলেন, ‘‌২৫ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি উত্তর–পূর্ব দিল্লিতে। পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হয়েছে। পুলিশ ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি আয়ত্তে এনেছে। দাঙ্গা বিধ্বস্ত এলাকায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকেও আমিই পাঠিয়েছিলাম।’‌

এদিন অধিবেশনের শুরু থেকেই সরকারপক্ষকে তুলোধোনা করে বিরোধীরা। বেশ কিছুক্ষণ বিরোধীদের হট্টগোলে অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। এরপর সন্ধেবেলা দিল্লি হিংসা নিয়ে বলতে ওঠেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, দিল্লি পুলিশ খুব বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি আয়ত্ত্বে এনেছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে ৩০০ দুষ্কৃতী আনা হয়েছিল হিংসা ছড়ানোর জন্য। শাহের অভিযোগ, এই হিংসার পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। বিরোধীদের প্রশ্ন ছিল, দাঙ্গা বিধ্বস্ত এলাকায় কেন একবারও গেলেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? কেন অজিত দোভালকে পাঠালেন তিনি? এর উত্তরে শাহ জানান, তিনি নিজে এলাকা পরিদর্শনে গেলে পুলিশ তাঁকে নিয়ে ব্যস্ত থাকত। এতে পুলিশের কাজে ব্যাঘাত ঘটত। এই কারণেই তিনি দোভালকে পাঠিয়েছিলেন। যাতে পুলিশের মনোবল বাড়ে। সেইসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তাজমহল সফরেও তিনি না গিয়ে দিল্লির পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখেছিলেন।

হোলির আগে কেন দিল্লির হিংসা নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়নি তারও ব্যাখ্যা এদিন দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হোলির পরে এই কারণে আলোচনা যাতে রঙের উত্‍সব দেশে শান্তিপূর্ণ হবে সম্পন্ন হয়। সংবেদনশীল ইস্যু বলেই হোলির পর হিংসা নিয়ে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকারপক্ষ। দিল্লির হিংসার পিছনে ষড়যন্ত্রের দাবি তুলে বিশেষ তদন্তকারী দল মামলাও রুজু করেছে বলে জানান শাহ। একইসঙ্গে তিনি বিরোধীদের আশ্বস্ত করেছেন, দাঙ্গাকারীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। কোনও নিরাপরাধকেও গ্রেপ্তার করা হবে না। আইবি কর্মী অঙ্কিত শর্মা ও পুলিশ কনস্টেবল রতন লালের খুনিদের চিহ্নিত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।