দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, অর্থনীতিতে ধাক্কা খাচ্ছে ইতালি।

প্রতিবেদক || মুজাহিদ হাসানঃ

করোনা ভাইরাসের ধাক্কায় টালমাটাল এখন ইউরোপসহ গোটা বিশ্ব। বৃহত্তম অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে চীনের পরপরই ইতালিতে ছড়িয়ে পড়ে এই মহামারি। দেশটিতে ইতোমধ্যেই এক লাখ ৬৫ হাজারেরও বেশি নাগরিক আক্রান্ত হয়েছে করোনাভাইরাসে। মৃতের সংখ্যাও ২১ হাজার ছাড়িয়েছে। এমতাবস্থায় অর্থনৈতিকভাবে বিশাল ধাক্কা খেতে যাচ্ছে দেশটি। যদিও এটি ইতালিতে ছড়ানো প্রথম কোনো বড় মহামারি নয়। গত চারশো বছরে বহুবার মহামারির কারণে বিপর্যস্ত হয়েছে দেশটি।

১৬২৯-৩১ সাল পর্যন্ত প্লেগের ভয়াবহ সংক্রমণের মুখে পড়ে ইতালির উত্তর এবং মধ্যাঞ্চল। শুধুমাত্র ভেনিসেই মৃত্যুবরণ করে ৪৫হাজারেরও অধিক নাগরিক। এছাড়াও ভেরোনা এবং পার্মার মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি লোক তখন এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

ঠিক একই ভাবে করোনাভাইরাসে ইতালির লোম্বারদিয়া অঞ্চলে মহামারি আঁকার ধারন করেছে।দেশটির মোট মৃত্যের ৫২.২৮% ভাগই এই অঞ্চলের জনগোষ্টি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল ) প্রানহারিয়েছে ৫৭৮ জন। মঙ্গলবার এ সংখ্যা ছিলো ৬০২ জন, সোমবার ৫৬৬ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২১ হাজার ৬৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এদিন নতুন আক্রান্ত ২ হাজার ৬৬৭ জন। দেশটিতে গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। গুরুতর অসুস্থ রোগির সংখ্যা ৩ হাজার ৭৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৬২ জন। চিকিৎসাধীন এক লক্ষ ৫ হাজার ৪১৮ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৬৫ হাজার ১৫৫ বলে জানিয়েছেন নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেল্লি।

তিনি বলেন, জনগণকে সুরক্ষা দিতে সরকার করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৮হাজার ৯২ জন।

ইতালির ২১ অঞ্চলের মধ্যে লোম্বারদিয়ায় করোনার সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত (মিলান, বেরগামো, ব্রেসিয়া, ক্রেমনাসহ) ১১টি প্রদেশ। আজ এ অঞ্চলে মারা গেছে ২৩৫ জন,যা গতকালের চেয়ে কম। গতকাল মঙ্গলবার এ সংখ্যা ছিলো ২৪২ জন।শুধু এ অঞ্চলেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে এগার হাজার ৩৭৭জনে দাঁড়িয়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬২ হাজার ১৫৩ জন। আজ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮২৭ জন। আজ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৬৬। মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৭হাজার ৮৫৫ জন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশের এই দুর্দিনে প্রায় আট হাজার অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মী স্বাস্থ্যসেবা দিতে করোনা আক্রান্তদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়াও করোনায় আক্রান্তদের সহযোগিতায় তিউনিশিয়া, কাতার, আলবেনিয়া, চীন, কিউবা এবং রাশিয়া থেকে আগত মেডিকেল টিম ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্তদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

সূত্রঃ জাগো নিউজ।