নতুন পোশাক পরে চাঁদে পাড়ি, তৈরি হচ্ছেন মহিলা নভোচরের দল।

প্রতিবেদক ।। মিরাজ হাসান :

নতুন প্রকল্প, নতুন পোশাক। চন্দ্রপৃষ্ঠে ঘুরে বেড়ানোর জন্য এবার নতুন করে সাজবেন মহাকাশচারীরা। আগামী চন্দ্র অভিযানের জন্য নাসা নতুন স্পেসস্যুট তৈরি করল। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে তা সকলের সামনে প্রকাশ করলেন নাসার প্রধান জিম ব্রিডেনস্টাইন। আর তা দেখে বেশ উচ্ছ্বসিত চন্দ্রাভিযানে অংশগ্রহণকারীরা।

কেমন দেখতে হল নাসার নতুন স্পেসস্যুট? ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে যে ধরনের পোশাক পরা হয়, নতুনটি অনেকটা তার মতোই। তবে এটি আরও আরামদায়ক এবং চন্দ্রপৃষ্ঠে ঘোরার আরও উপযুক্ত করে তৈরি হয়েছে। সঙ্গে থাকবে একটি হেলমেটও। ১০০ শতাংশ অক্সিজেন থাকছে স্যুটটিতে। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে নাসা প্রধান দুই মহাকাশচারীকে নতুন পোশাক পরিয়ে সবটা দেখিয়ে দিলেন। মহিলা মহাকাশচারী অ্যান ম্যাককেইন এবং মহাকাশযানের ইঞ্জিনিয়ার ক্রিস্টিন ডেভিস সাদা, লাল এবং নীল রঙের স্পেসস্যুটটি পরে দেখে নিলেন, সব ঠিক আছে কি না। এর আরও একটি সুবিধা হল, আপনার চেহারা যেমনই হোক, পোশাকটি আপনার শরীরের মাপেই বসে যাবে। এর মাত্র তিনটি অংশ – হেলমেট, কোমর পর্যন্ত একটি অংশ এবং কোমর থেকে পা পর্যন্ত আরেকটি অংশ। সর্বনিম্ন অংশটি তুলনামূলকভাবে হালকা, চন্দ্রপৃষ্ঠে আরামে চলাফেরার জন্য। পরা অত্যন্ত সহজ। তথাকথিত স্পেসস্যুটের মতো জটিল নয়।

ক্রিস্টিন এবং অ্যানকে দেখিয়ে নাসা প্রধান জিম ব্রিডেনস্টাইন বলেন, ‘এঁরা যেভাবে পোশাকটি পরছেন, সেটাই নিয়ম। চন্দ্র অভিযানে যাওয়ার সময় প্রত্যেক নভোচরকে এভাবেই এটি পরতে হবে। এবং প্রত্যেকেই বুঝতে পারবেন, তাঁদের শরীরে কী সুন্দর ফিট করেছে নতুন স্পেসস্যুটটি।’ চন্দ্রযানের আরেক ইঞ্জিনিয়ার অ্যামি রস বলছেন, ‘এই পোশাক পরলেই চন্দ্রাভিযানে যাওয়া নভোচররা বুঝতে পারবেন যে এটা তাঁদের পক্ষে কতটা আরামদায়ক।’ আরেক নভোচর কেট রুবিনের কথায়. ‘চন্দ্রপৃষ্ঠের পার্বত্য অংশে উঠে কিছু পরীক্ষানিরীক্ষা করার থাকলে, এই স্পেসস্যুটের হালকা ওজন সাহায্য করবে। এটি এমন একটি উপাদান দিয়ে তৈরি, যাতে ধুলোবালিও লাগবে না। ফলে যতদিন খুশি পরিচ্ছন্ন পোশাক পরেই থাকতে পারবেন।’

সোর্সঃ সংবাদ প্রতিদিন