নিজস্ব পরিচয় আর থাকছেনা কাস্মীরের!


ভারতীয় সংবিধানের যে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে কাশ্মিরকে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে সোমবার সেটি বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।সোমবার (৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ ঘোষণা দেন তিনি। ইতোমধ্যে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় এ সংক্রান্ত বিলও উত্থাপন করেছেন অমিত শাহ। আর ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণার পর কাশ্মিরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলে নতুন করে সেখানে সেনা সংখ্যা আরও বাড়ানো হলো।
কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও সেখানকার বাসিন্দাদের বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ণ করার দিনটিকে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসের ‘সবথেকে অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন’ আখ্যা দিয়েছেন রাজ্যের মেহবুবা মুফতি। টুইটারে তিনি লিখেছেন,‘১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মির দুই জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে থাকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল,এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা হলো।’
সোমবার সরকারের সিদ্ধান্তের পর প্রতিক্রিয়ায় জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ বলেছেন, ভারত সরকারের আজকের একতরফা ও জঘন্য সিদ্ধান্ত জম্মু-কাশ্মিরের জনগণের সঙ্গে চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাকতকতা। এই সিদ্ধান্তের ফল হবে দীর্ঘমেয়াদি ও বিপজ্জনক। এটা রাজ্যের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন।
বিশ্লেষকরাও মনে করেন,ব্যাপক মাত্রায় সামরিকায়ন,নিরাপত্তা তল্লাশির সূত্রে হওয়া নির্বিচার হয়রানি ও স্বশাসনের অধিকার ক্ষুণ্ন করার মতো বিষয়গুলো স্থানীয়দের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ জাগিয়ে তুলছে। তাদের ঠেলে দিচ্ছে পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর দিকে। তার মধ্যে ৩৭০ ধারা বিলোপ করে স্বায়ত্তশাসনের আনুষ্ঠানিক অধিকারও কেড়ে নেওয়া হলো।
জম্মু ভ্রমণরত কাশ্মিরের শ্রীনগরের বাসিন্দা ফারুক আহমদ বলেন, এই সিদ্ধান্তে আমরা হতবাক। আমরা হতাশ কারণ এই বিশেষ সুবিধা আমাদের অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এটা বাদ দেওয়ার অর্থ হলো রাজ্যটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ চরিত্র হারাবে।
৫০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি মনে করেন, যদিও গত ৭০ বছর ধরে রাজ্যের ক্ষমতাসীন নেতারা এই সুবিধাকে কঙ্কালসার করে ফেলেছেন কেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতা করে। কিন্তু এটা বাদ দেওয়ার ফলে জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তুলবে।
২০ বছরের আরশিদ ওয়ারসি বলেন, তারা কতদিন আমাদের গৃহবন্দি করে রাখবে? ৩৭০ ধারা বাতিল মানে এই নয় যে আমরা নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারব না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুল শিক্ষক চলমান এই সংকটের জন্য রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়ী করছেন। তিনি বলেন, আজ আমরা নিজেদের পরিচয় হারিয়ে ফেলেছি বলে মনে হচ্ছে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে শান্তির পরিবর্তে আম জনতার মনে আরও ক্ষোভের সঞ্চার হবে।
ব্যবসায়ী জলিল আহমেদ বাট বলেন, কারফিউয়ের মতো অবস্থার অবসানের পর পরিস্থিতি কোনও দিকে যাবে তা আমরা জানি না। মনে হচ্ছে আমরা সবচেয়ে খারাপ সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।