পড়ায় মনোযোগের অভাব? কী করবেন বুঝতে পারছেন না? কী উপায়?

এই সমস্যায় সমাধানের উপায়ও অবশ্যই আছে! একটি না, দুইটি না, অনেকগুলো উপায়ই আছে। পড়তে বসলেই আমাদের মন এদিক ওদিক উঁকি দিয়ে অন্য দুনিয়ায় মজে যায়। মাঝখান দিয়ে পড়াশোনা চলে যায় গোল্লায়! তাই পড়ার প্রতি ‘মনোযোগ বৃদ্ধিতে’ কি কি করা যায়, তা নিয়েই সাজিয়েছি লেখাটি ( ১ নং পয়েন্টটি অধিক গুরুত্ব দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইল)।
.
১৫। Study Music:
.
ইউটিউবে Study Music লিখে সার্চ করলেই আপনি সন্ধান পেয়ে যাবেন অসংখ্য মিউজিকের। পড়ায় মনোযোগ বাড়াতে এগুলো বিশেষভাবে তৈরি করা হয়। এখন থেকে তবে পড়ায় মনোযোগ না বসলে যেকোনো একটি মিউজিক চালু করে পড়তে বসুন। ইউনিভার্সিটির সিনিয়র প্রীতম ভাইয়ের কাছ থেকে শেখা এই পদ্ধতি কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সত্যিই কাজে লেগেছে!
.
১৪। Think Big, Start Small:
.
আপনি নিশ্চয়ই অনেকক্ষণ একটানা পড়ার চেষ্টা করেন কিন্তু মনোযোগ হারিয়ে যাওয়ায় তা আর সফল হয় না। তাই এখন থেকে ছোট একটি সময় নির্ধারণ করে পড়া শুরু করুন। প্রথম কয়েকদিন ২০ মিনিট পড়ুন ও ১০ মিনিট বিরতি নিন। এরপর আবার ২০ মিনিট পড়ুন ও আবার বিরতি নিন।
.
ধীরে ধীরে,কয়েকদিন পর ৩০ মিনিট, এরপর ৪০ মিনিট, এরপর ৫০ মিনিট- এভাবে সময়টিকে বাড়িয়ে নিন ও নিজের ‘মস্তিষ্ককে অভ্যস্ত করানো দেখবেন।
৩। Forest : যাদুকরী একটি অ্যাপ!
.
এই অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন– দুটির জন্যই পাবেন। এখানে আপনি একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিবেন। ধরুন ৩০ মিনিট নির্ধারণ করলেন। সেই ৩০ মিনিটে স্ক্রিনে দেখবেন যে একটি বীজ থেকে চারা এবং চারা থেকে গাছ তৈরি হচ্ছে। তবে শর্ত হল, ঐ ৩০ মিনিটে আপনি ফোনে হাত দিতে পারবেন না। ফোনে হাত দিলেই গাছটি নষ্ট হয়ে যাবে। অতএব, নিজেকে ফোন হতে দূরে রাখতে এবার ফোনটাই ব্যবহার করুন ভিন্নভাবে!
.
২। ‘WHY SHEET’ তৈরি করুন:
.
পড়তে বসলে মন যখন এদিক-ওদিক চলে যায়, মনকে তখন বশ মানাবে এই WHY SHEET।
.
এই মুহূর্তে পড়লে আপনার কি কি ফায়দা হবে তা চিন্তা করুন। আপনার মানসিক কি সুবিধা হবে, আর্থিক কি সুবিধা পেতে পারেন- এভাবে চিন্তা করুন। যেমনঃ ঢাবিতে চান্স পেতে হবে, স্কলারশিপ পেতে হবে, বাবা-মা খুশি হবে, সকালে গ্রুপ স্টাডিতে বন্ধুদের বুঝাতে পারব ইত্যাদি হতে পারে উত্তরগুলো। এবারে এগুলো একটি কাগজে লিখে নিয়ে টেবিলের উপর এমন ভাবে বা এমন স্থানে লাগিয়ে রাখুন যেন বই থেকে চোখ তুললেই আপনি তা দেখতে পান।
.
এটি আপনাকে Instant Motivation দিবে পড়ার জন্য। বিশ্বাস করুন, খুবই কার্যকরী এটি।
.
১। অবচেতন মন ও অচেতন মনের সমন্বয় ( Combination of Subconscious Mind & Conscious Mind):
.
পুরো লেখার মধ্যে এই পয়েন্টটি আপনাকে শুধু পড়ার টেবিলে নয়, জীবনের প্রতিটি কাজ করার ক্ষেত্রে ফোকাস করতে শিখাবে। দেখুন তবে।
.
Subconscious Mind-এ:
.
– আপনি সেই কাজগুলো করেন যেগুলো করতে আপনার ‘আলাদা মনোযোগ’ দিতে হয় না
.
– কাজগুলো সব স্বাভাবিক নিয়মেই হতে থাকে এবং আপনি বুঝতে পারেন যে কাজটি হচ্ছে কিন্তু আপনার নিজের ‘মনকে বুঝাতে হয় না’ যে আমি কাজটি করছি।
.
– আবার বলছি, আপনার মনকে ‘আলাদা করে বুঝাতে হয় না’ যে আপনি এই কাজটি করছেন
.
ঘুরে আসুন: ছাত্রজীবনের বহুল প্রচলিত ৫টি সমস্যা এবং সমাধান!
.
– উদাহরনঃ কোন টিভি বিজ্ঞাপন দেখার সময় আপনি ডায়লগও শুনতে পান, সেই সাথে ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু মিউজিকও শুনতে পান। এখন বলুন তো, আপনি আলাদা মনোযোগ দিয়ে কোনটি শুনছেন? অবশ্যই ডায়লগগুলো। কিন্তু আপনি তো আবার মিউজিকও শুনছেন! আপনি কি তাহলে মিউজিকের প্রতি ‘আলাদা মনোযোগ’ দিচ্ছেন? না, দিচ্ছেন না।
.
অর্থাৎ, এই মিউজিক শুনার কাজটিই আপনি করছেন অবচেতন মনে। একটি Subconscious+Conscious Mind এর কম্বিনেশনে কাজ দুটি করছেন।
.
Conscious Mind-এ:
.
– আপনি সেই কাজগুলো করেন যেগুলো করতে আপনার ‘আলাদা মনোযোগ’ দিতে হয়
.
– আপনার নিজের ‘মনকে বুঝাতে হয়’ যে আমি কাজটি করছি।
.
– উদাহরণঃ আপনি যখন এই ব্লগটি পড়ছেন তখন আপনার মন জানছে যে, “ হ্যাঁ, আমি এই মুহূর্তে একটি ব্লগ পড়ছি ”। অতএব, আপনি কিন্তু এখন‘একটি’ কাজের প্রতি ফোকাস করছেন। আবার, ইউটিউবে ১০ মিনিট স্কুলের একটি ভিডিও দেখার কাজটিও কিন্তু আপনি Conscious Mind এই করেন।
.
তাহলে আমরা এই মন্তব্যে আসতে পারি যেঃ
.
Subconscious Mind + Conscious Mind Combination –এ আপনি ‘দুইটি’ কাজ একসাথে করতে পারেন এবং দুইটির একটিতেও কোন বাঁধা সৃষ্টি হয় না ও ফোকাসও নষ্ট হয় না। (বিজ্ঞাপন দেখার উদাহরণটি পড়ে বুঝুন)
Conscious Mind + Conscious Mind Combination-এ আপনি ‘দুইটি’ কাজ একসাথে করলে দুটিতেই ব্যাঘাত ঘটবে এবং ফোকাস নষ্ট হবে।
.
(উদাহরণঃ একসাথে যদি এই ব্লগটিও পড়েন এবং অন্যদিকে একটু একটু পর এরই মাঝে কোন ভিডিও দেখেন, কোনটাই ঠিকমত করতে পারবেন না। কারনঃ দুইটি কাজের জন্যই আপনার Conscious Mind প্রয়োজন হচ্ছে। আপনার ব্রেইন তখন দুই দিকে মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করছে এবং এখানেই আপনি ফোকাস হারিয়ে ফেলছেন।
.
সিদ্ধান্ত:
.
– পড়াশোনা করার কাজটি ঘটে Conscious Mind-এ। অতএব, পড়ার সময় এমন কোন কাজ করবেন না, যেটা করতেও Conscious Mind প্রয়োজন হয়, যেটা করতে আপনার ব্রেইনকে আলাদা মনোযোগ দিতে হয়। যেমন ধরুনঃ পড়ছেন এবং পাশাপাশি ফেসবুক ব্যবহার করছেন। এমন করলেই আপনার ব্রেইন দুইদিকে ফোকাস করার চেষ্টা করবে এবং ফলশ্রুতিতে কোনটাতেই ফোকাস হবে না।
.
– অতএব পড়ার সময় শুধুই পড়ুন।
.
– কিংবা Subconscious Mind+Conscious Mind কম্বিনেশনে পড়ুন। যেমনঃ স্টাডি মিউজিক শুনুন ও পড়ুন। কিংবা অংক করার সময় গান শুনুন। আপনি এই ক্ষেত্রে Subconscious Mind-এ গান শুনবেন এবং Conscious Mind-এ পড়বেন। ফলে কোন কাজেই ব্যাঘাত ঘটবে না বরং আপনি পড়ায় ফোকাস করতে পারবেন।
.
.– পড়াশোনাটা যদি ল্যাপটপে ও ইন্টারনেটে থাকে, তাহলে একাধিক ট্যাব না খুলে পড়ার চেষ্টা করুন।
.
উপরে বর্ণিত প্রতিটি কাজ ধীরে ধীরে অভ্যাসের মধ্যে নিয়ে আসলে অবশ্যই পড়ার টেবিলে আপনার মন বসবে বলে আশা করি। খুব বেশি কঠিন কিন্তু নয় কাজগুলো! সবার জন্য শুভ কামনা।

সংগীত