ফোনালাপ গোপন করার চেষ্টা করেছিল হোয়াইট হাউস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভেলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে হওয়া ফোনালাপের সব তথ্য হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন বলে এক হুইসেলবেস্নায়ার (তথ্য ফাঁসকারী) অভিযোগ করেছেন। এদিকে, ট্রাম্প যে তথ্য ফাঁসকারীর অভিযোগে ডেমোক্রেটদের অভিশংসন তদন্তের মুখে পড়েছেন, সেই ব্যক্তি গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একজন কর্মকর্তা। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ প্রথম এই তথ্য ফাঁসকারীকে চিহ্নিত করেছে। তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা এই কর্মকর্তা এক সময় হোয়াইট হাউসে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি পত্রিকা। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স

সূত্রটির অভিযোগ, দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যকার আলাপের অনুলিপি সচরাচর যে কম্পিউটার ব্যবস্থাপনায় রাখা হয়, সেখানে না রেখে গোপনীয় তথ্য থাকে- এমন পৃথক ব্যবস্থাপনায় রাখা হয়েছিল। বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে বিদেশি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পথ করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ তাদের। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে জনমত জরিপে বাইডেন অনেকদিন ধরেই এগিয়ে রয়েছেন। তাকে আটকাতেই ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলেনস্কিকে ওই চাপ দিয়েছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। দর-কষাকষির অংশ হিসেবে ফোনালাপের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনে প্রায় ৪০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও ভাষ্য সমালোচকদের।

চলতি মাসে পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই সহায়তার ছাড়পত্রে অনুমোদন দিয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিদেশি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগ নিয়ে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ডেমোক্রেটরা অভিশংসন তদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আনবে বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। এ পদক্ষেপকে ‘ধাপ্পাবাজি’ ও ‘আরেকটি উইচ হান্ট’ আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার কয়েকদিন আগে দেশটিতে সামরিক সহায়তা বন্ধের বিষয়ে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করে নিলেও এটি বাইডেন বিষয়ক তদন্তে চাপ দিতে ব্যবহার করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ডেমোক্রেটরা দেশের জন্য দুর্নাম নিয়ে আসছে, এটির অনুমোদন দেয়া উচিত হবে না। এটি বন্ধের উপায় থাকা উচিত, হয়তো আদালতের মাধ্যমে আইনিভাবেই, বৃহস্পতিবার হুইসেলবেস্নায়ারের অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আগের দিন জাতিসংঘের যুক্তরাষ্ট্র মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘হুইসেলবেস্নায়ারকে যারাই তথ্য দিয়েছে, তারা অনেকটাই গুপ্তচর।’ যুক্তরাষ্ট্র অতীতে গুপ্তচরদের যেভাবে মৃতু্যদন্ড দিত, সে প্রসঙ্গ টেনে এনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পুরনো দিনে যখন আমরা স্মার্ট ছিলাম, তখন কী করা হতো, আপনারা জানেন? গুপ্তচর ও রাষ্ট্রদ্রোহিতাকে আমরা এখনকার চেয়ে খানিকটা ভিন্নভাবে মোকাবেলা করতাম।’