সিফাতুল ইসলাম :

আইসিসি অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ১২ তম আসরে নতুন চ্যাম্পিয়ন পেল ক্রিকেট বিশ্ব। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের ৩ উইকেটে হারিয়ে প্রথম বারের মত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবার স্বাদ পেল বাংলাদেশ।
বৃষ্টি সম্ভাবনা এবং তার সাথে বোলিং সহায়ক উইকেটে এইদিন শুরুতে টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক আকবর আলি। সেমিতে দুই পেসার খেলানো হলেও এদিন দলে আসে কিছুটা পরিবর্তন, নেয়া হয় তিন পেসার আর সাথে রকিবুল ও হৃদয়ের ঘূর্ণি শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করতে থাকে ভারত শিবিরে। মাত্র ৯ রানে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে থাকা তামিম এর কাছে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন ওপেনার সাক্সেনা। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে তিলক বার্মাকে নিয়ে ৯৪ রানের জুটি গড়েন জেইসোয়াল। কিন্তু দলীয় ১০৩ রানে অভিষেক দাসের শিকার হয়ে তিলক ফিরে গেলে ভেঙে যায় ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ। মাঝে চতুর্থ উইকেটে ৪২ রানের জুটি হলেও আর কোন জুটি না হওয়ায় ৪৭.২ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৭৭ রান সংগ্রহ করে ভারত অনূর্ধ্ব ১৯ দল। সর্বোচ্চ ৮৮ রান করেন জেইসোয়াল। বাংলাদেশের হয়ে ৩ টি উইকেট নেন অভিষেক এবং দুটি করে উইকেট নেন সাকিব ও শরিফুল।
জবাবে ১৭৮ রানের সহজ লক্ষে ব্যাট করতে নেয়ে ভালো শুরু এনপ দেন দুই বাংলাদেশী ওপেনার তামিম ও ঈমন। কিন্তু ৫০ রানে তামিম আউট হয়ে ফিরে গেলে কিছুটা চাপ পরে বাংলাদেশ শিবিরে। কিন্তু মাত্র ১২ রানের ব্যাবধানে আগের ম্যাচে শতরানের ইনিংস খেলা মাহমুদুল ফিরে গেলে একই সাথে পায়ের ব্যাথায় বাইরে যেতে হয় আরেক ওপেনার ঈমন কে এবং সেই সাথে একের পর এক পরতে থাকে বাংলাদেশের উইকেট। মাত্র ১০২ রানে ৬ উইকেট পতনের পর যখন বাংলাদেশ দলে ভাটা নেমে আসে তখনি ব্যাথা নিয়ে আবার মাঠে নামেন ওপেনার ঈমন। এবং তাকে নিয়ে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক আকবর আলি গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ৪২ রানের জুটি। কিন্তু ১৪৩ রানে ঈমন ফিরে গেলে রকিবুল কে নিয়ে বাকি কাজ শেষ করেন অধিনায়ক আকবর আলি। মাঝে বৃষ্টি বাধায় খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। এরপর আবার খেলা শুরু হলে নতুন টার্গেট দাড়ায় ১৭০ রান। ফলে বাংলাদেশের তখন প্রয়োজন ২৯ বলে ৬ রানে। এরপর ফিরে এসে খেলা শেষ করেন রকিবুল ও অধিনায়ক আকবর আলি, ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আর এই জয়ে প্রথমবারের মত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবার স্বাদ পায় বাংলাদেশ।
অসাধারণ অধিনায়কত্ব ও ম্যাচ জয়ী পারফর্ম করায় তাই ম্যাচ সেরা পুরষ্কারটাও পান বাংলাদেশদ অধিনায়ক এবং টুর্নামেন্ট সেরা হন জেইসোয়াল।