মারিয়া শারাপোভাঃ- টেনিসের সাথে ২৮ বছরের সম্পর্কের অবসান।

জুহায়ের বিন হুদা :

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ২০২০। মেলবোর্ন এ চলছে প্রথম রাউনন্ডের ম্যাচ।অখ্যাত ডোনা ভেকিচের কাছে সরাসরি সেট এ হেরে গেলেন মারিয়া। র‍্যাংকিং এ অবস্থান ৩৬৯। অভিষেকের পর সবচেয়ে বাজে।সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন ছেরে দিবেন টেনিস।সারা জীবন লড়াই করে যাওয়া সৈনিক হেরে গেলেন ইঞ্জুরী ও ফর্মহীনতার কাছে।

কথা বলছিলাম মারিয়া ইউরিয়ভনা শারাপোভার কথা। ১৯৮৭ সালে তৎকালিন সোভিয়েত ইউনিয়নে জন্ম তার। চেরনোবিলের ভয়াবহতার কারনে এক বছর বয়সেই সোচি তে চলে যান পরিবারের সাথে।

টেনিসে হাতেখড়ি ৪ বছর বয়স থেকেই।বাবার অনুপ্রেরণায় ৬ বছর বয়স থেকে নিয়মিত টেনিস খেলে নজর কারেন মারটিনা নাভ্রাতিলোভার।

মেয়ের ভবিষ্যত ও সুন্দর জীবনের কথা ভেবে ১৯৯৪ সালে ইউরি শারাপোভা পারি জমান আমেরিকায়।সেখানেই পেশাদার টেনিস খেলা শুরু করেন মারিয়া।২০০১ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সেই অভিষেক। শুরু থেকেই আলো ছরানো মারিয়া ২০০৪ সালে ১৭ বছর বয়সে জিতেন নিজের উইম্বলডন- নিজের প্রথম গ্র‍্যন্ডস্লাম। এক ননম্বর বাছাই সেরেনা উইলিয়ামস কে পরাজিত করেন। টেনিস জগতে জন্ম দেন ‘ মারিয়া ম্যনিয়া ‘।

পরের বছরেই র‍্যাংকিং এর শীর্ষস্থান অর্জন করেন মারিয়া। ২০০৬ সালে জিতেন ইউস ওপেন। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের মাধ্যমে পান তৃতীয় গ্র‍্যান্ডস্লাম। তবে ২০০৯ সালেই ভয়াবহ কাধের ইঞ্জুরীর শিকার হন মারিয়া। এক বছর বিরতী নিয়ে ২০১০ এ ফিরলেও নিজের সেই ফর্ম পেতে আরও দুইবছর অপেক্ষা করতে হয় মারিয়া কে।

২০১২ সালেই দুরদান্ত ভাবে প্রত্যাবর্তন হয় মারিয়া শারাপোভার। বছরের শুরুতেই র‍্যাংকিং এ আবারও প্রথম স্থান অর্জন করেন মারিয়া।বছরের মাঝামাঝি তে এসে জিতেন ফ্রেঞ্চ ওপেন।এর মাধ্যমেই ক্যারিয়ার গ্র‍্যান্ডস্ল্যাম জেতার রেকর্ড করেন তিনি। মারিয়া শারাপোভাই প্রথম রাশিয়ান হিসেবে এই সম্মান অর্জন করেন। দুই মাস পরেই লন্ডন অলিম্পিক্স থেকে পান রুপা। স্মরণিয় একটি বছর পার করেন তিনি।দুই বছর পরে জিতে নেন আরেকটি ফ্রেঞ্চ ওপেন।

২০১৪ সালে নিজের পঞ্চম গ্র‍্যান্ডস্ল্যাম জয়ের পরে কিছুটা ফর্মহীনতায় ভুগেন মারিয়া। এরই মধ্যে সবচেয়ে বড় দুসংবাদ শুনেন তিনি। ডোপ টেসট এ পজিটিভ হওয়ার কারনে নিষিদ্ধই হয়ে যান তিনি। পরে সেই নিষেধাজ্ঞা ১৫ মাস করা হয়।

শেই শেষ।নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে এসে আর নিজেকে মেলে ধরতে পারেন্নি মারিয়া।ইঞ্জুরি আর বাজে ফর্মের কারনে কোনো টুর্নামেন্টএই সরাসরি বাছাই এ নাম আসছিলো নাহ তার। শেষ পর্যন্ত হার মানলেন তিনি।বিদায় বলে দিলেন ২৮ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের।

নিজের জীবনের লড়াই এ কখনই হার মানেন নি মারিয়া। তাই ত মাত্র ৩২ বছর বয়সেই টেনিস কে বিদায় বলে দেওটা অনেক ভক্তই মেনে নিতেন পারেননি।তবে যতদিন খেলেছেন, টেনিস জগত কে দিয়ে গেছেন এক দুর্দান্ত খেলোয়ার।১১ বছর ধরে বিশশের সবচেয়ে দামী প্রমিলা খেলোয়াড় হিসেবে ফর্বস ম্যাগাজিনে জায়গা পাওয়া মারিয়া নিজের পরবর্তী জীবনেও সফল হবেন – এমন শুভকামনাই রইল। টেনিস জগতের মতই নিজের বাকি জীবনে ‘ আন্সটপাবেল’ থাকেবেন রুশ গ্ল্যামার গার্ল – প্রত্যাশা কোটি টেনিস ভক্তের