মাশরাফির নেতৃত্বে আরেকবার, মাশরাফির নেতৃত্বে শেষবার। শেষ হতে যাচ্ছে ক্যাপ্টেন ম্যাশ অধ্যায়।

প্রতিবেদক || মুজাহিদ হাসান :

চলো বাংলাদেশ চলো বিশ্ব উঠানে চলো। মাশরাফির নেতৃত্বে আরেকবার মাশরাফির নেতৃত্বে শেষবার,তাকে আটকে রাখার চেষ্টা, বাড়িয়ে দিচ্ছে তেষটা কিন্তু প্রকৃতির নিয়মই যে শেষটা।

বাংলার ক্রিকেটের গৌরবময় এক অধ্যায় গোধূলিলগ্নে, সূর্যাস্তটা হোক কৃষ্ণচূড়ার রঙিন আভায়। করুণ সুরে নয়,নেতৃত্বের বিদায় বেলায় ও গ্যালারী থেকে ভেসে আসুক গৌরবের গর্জন,একটা বাঘের জন্য গর্জন ওটাই তো মাশরাফির অর্জন।

একটা সময় দলটাতে সবই ছিল,ছিল না শুধু সাহস,হেরে যাওয়াই যখন নিয়ন একজনকে পাওয়া গেল ব্যতিক্রম। চলনে-বলনে একেবারে স্বাধীনচেতা,মাঠে ভীষণ ক্ষেপাটে,একেবারে পাগলা,কারো ধার ধারে না, পরোয়া করে না,,একেবারে ঘাড়ত্যাড়া নাম তার মাশরাফি বিন মোর্তজা। বাংলার ক্রিকেটের দিন বদলের নেতা।নিজে যেমন নেতৃত্বও তেমন। তোয়াক্কা করে না নিয়ন-কানুন।প্রায় একযুগ ধরে বাংলার ক্রিকেটের কান্ডারী অর্জনে ৪০ ওডিআই, ১০ টি-২০, ১ টেষ্ট জেতার অধিনায়কত্ব। বাংলার কত শত প্রাণ কাপানো মুহুর্ত তার অধিনায়কত্বে, মাঠে তার কলার উঁচু মাস্তানিতে। বিশ্বকাপের নক আউট পর্ব,চ্যাম্পিয়নস ট্রপির শেষ চার,গোটা তিনেক এশিয়া কাপের ফাইনাল নতুন করে লিখেছেন দেশের ক্রিকেট ইতিহাসকে।

মাত্র কটা ম্যাচ উইকেট পাননি।সে কি শোরগোল,কী সমালোচনা,নিমিষেই কিছু মানুষের পাল্টে গেল ভোল। শেষ মাশরাফিকে শুনতে হল তিনি কি লজ্জিত? উত্তরটা খুব প্রতিবাদের স্বরেই দিলেন দুই দশক আগে জীবনের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে গ্রান্ড ফ্লাওয়ারের উইকেট উপড়ে ফেলা সেই মাশরাফি। অভিমানি সুরে ক্যানভাসটা হয়তো সাদা কালো কিন্তু ওটাকে ঠিকই রঙিন করে দেবে এদেশের নিঃস্বার্থ সব ক্রিকেট প্রেমিরা। তবে তাই হোক চলো বাংলাদেশ চলো বিশ্ব উঠানে চলো মাশরাফির নেতৃত্বে আরেকবার মাশরাফির নেতৃত্বে শেষবার। সময় হয়েছে সিলেটের পুন্য ভূমিতে রূপকথার রাজপুত্রকে পুন্যতা দেবার।

চলছে জিম্বাবুয়ে সিরিজ।ইতোমধ্যে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।আগামীকাল ৩য় ও শেষ ম্যাচ জয়ের মাধ্যমেই শেষ করতে চান ক্যাপ্টেন ম্যাশ। সংবাদ সম্মেলনে অনেকটা অভিমানের স্বরেই এমন ঘোষণা দেন মাশরাফি।তাকে নিয়ে চলছিল কানা ঘষা, কেন অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন না।কিন্তু তিনি যে কারো ধার ধারেন না,কারো কাছে ছোট হওয়ার পাত্র না, তাই নিজের আত্মসম্মান নিজেই রেখে দিলেন ঘোষণা দিলেন অধিনায়কত্ব ছাড়ার। কিন্তু কেন? তার উত্তর অজানা। এখন শুধু অপেক্ষা বাংলার ক্রিকেট প্রেমী ভক্তরা কিভাবে বিদায় দিবে তাদের রাজপুত্র,তাদের প্রাণের কেন্দ্র বিন্দুতে থাকা মানুষটিকে?

শেষটা যেন রঙিন হয় এমন শুভ কামনাই রইলো।