লেবাননে করোনাভাইরাস, নতুন আক্রান্ত ১০ জন।

প্রতিবেদক || মুজাহিদ হাসানঃ

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা দেশে। মধ্যপ্রাচ্যে করোনাভাইরাস থাবা বসিয়েছে। ইরান, ওমানের পর এবার লেবাননে ছড়িয়েছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। মরণঘাতী এই ভাইরাসে নতুন করে আরও ১০ জন আক্রন্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ওমানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ সংবাদ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে আরও ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে আটজন লেবানিজ, একজন সিরিয়ান ও একজন ইরানি।

কোভিড-১৯ রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

গতকাল রোববার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন আক্রান্ত তিন রোগী ইরান ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরার পর নিজেদের বাসায় স্কোয়ারেন্টাইন থাকাকালীন করেনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।

এর আগে গত শনিবার শনাক্ত করা তিন রোগী ‘আগে আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শের মাধ্যমে’ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নতুন তিনজনসহ করোনাভাইরাসে শনাক্ত সকল রোগী বর্তমানে রাজধানী বৈরুতের রফিক হারিরি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আলাদাভাবে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভাইরাস প্রাদুর্ভাবকারী দেশগুলো থেকে লেবাননে আসা সকলকে নিজ বাড়িতে আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণে থেকে নির্দেশাবলী সম্পূর্ণরূপে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

যদি কারও করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ অনুভব হয়, তবে দ্রুত হটলাইনে নম্বরে ৭৬-৫৯২৬৯৯ কল করতে লেবানিজ ও প্রবাসীদের অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এদিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল রবিবার সাপ্তাহিক খোলাবাজার ও সড়ক বাজারগুলো বন্ধ রাখা হয়।

বাংলাদেশ দূতাবাসের সতর্ককতা

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া লেবাননে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। গতকাল রোববার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈরুত দূতাবাসের চার্জ দ্য এফেয়ার্স আব্দুল্লাহ আল মামুন এ অনুরোধ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, লেবাননে করোনাভাইরাস সংক্রমিত প্রথম তিন রোগী ইরান ভ্রমণ করে দেশে ফিরেছিলেন। যাদের সবাই লেবানিজ। চতুর্থ রোগী সিরিয়ান নাগরিক হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল যার সংক্রমণটি স্থানীয় সংক্রমণের মাধ্যমে ঘটেছিল।