স্কুলের টুকলিবাজরাই কর্মজীবনে অসৎ হন, বলছে মার্কিন গবেষণা

নিউজপোল ডেস্ক: মানুষের বিভিন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং গুণাবলী কীভাবে তৈরি হয়, সেটা নিয়ে গবেষক মহলের কৌতূহল চিরকালীন। সম্প্রতি সানফ্রানসিসকোতে হওয়া একটি গবেষণা জানাচ্ছে, ছাত্রাবস্থায় যাঁরা পরীক্ষায় টুকে পাশ করেন, প্রাপ্তবয়সে এঁরাই অসৎ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে থাকেন। বিশেষত, কর্মজীবনে এঁরা অসৎ হন বলেই দাবি এই গবেষণার।

মনোবিজ্ঞানের ‘নেচার ভার্সেস নারচার’ দ্বৈরথ বহুদিনের। নেচার অর্থাৎ প্রকৃতিবাদীরা বিশ্বাস করেন, মানুষের মধ্যে যেসব গুণাবলী সেগুলো আসে তাঁর পরিবার থেকে জিনবাহিত হয়ে। নারচার অর্থাৎ পরিবেশবাদীদের দাবি ছিল, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে ভবিষ্যতেও। নিজের চারপাশের পরিবেশ থেকে মানুষ যা শেখে, সেটার প্রতিফলনেই তৈরি হয় তাঁর ব্যক্তিত্ব। কিন্তু এই সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুসারে, সততা, ন্যায়বোধ, নিষ্ঠা, মমতা জাতীয় বৈশিষ্ট্যগুলো তৈরি হয় ছোট থেকেই। যে সমস্ত ব্যক্তি ছোটবেলা থেকেই পরীক্ষায় অনুশোচনাহীন ভাবে টোকাটুকি করতে পারেন, পরবর্তীকালে চাকরির ক্ষেত্রে এঁরাই বিভিন্ন অনৈতিক কাজকে প্রশয় দেন।

২৫০ জন স্নাতক স্তরের পড়ুয়াদের নিয়ে করা হয়েছিল এই সমীক্ষা। সমীক্ষার শেষে এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছেছেন গবেষকরা। মনোবিদেরা বলে থাকেন, ছোটবেলা থেকে যে সমস্ত শিশু স্নেহ-আদর-ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হয়, পরবর্তীকালে তাঁদের মধ্যে মায়ামমতা বোধ কম থাকে বলে দেখা গেছে। কিন্তু ছোট থেকে যে শিশু ভালবাসার মধ্যে বড় হয়, তাঁদের মধ্যে মমতা এবং সহমর্মিতা বোধ বেশি থাকে। তবে এক্ষেত্রে একটা কথা উল্লেখযোগ্য, ছোটবেলায় ছাত্রাবস্থায় অনেকসময় বিভিন্ন কারণেই টোকাটুকি করে থাকে পড়ুয়ারা। বড় হওয়ার পর উচিত-অনুচিতের বোধ তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেটে যায় সেই অভ্যাস। সেখানেই প্রকৃতিগত ভাব গুরুত্ব পায় অভ্যাসের ওপর।