ক্ষোভে এবার সংবাদ সম্মেলনই বন্ধ করে দিলেন ট্রাম্প।

প্রতিবেদক || নোমান হোসাইনঃ

করোনা চিকিৎসায় শরীরে জীবাণুনাশক প্রয়োগের উদ্ভট পরামর্শদানের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার ক্ষোভে সংবাদ সম্মেলনই বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন!

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে হোয়াইট হাউসে প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে করোনা চিকিৎসায় শরীরে জীবাণুনাশক প্রয়োগের উদ্ভট পরামর্শ দেন তিনি। আর এতে বিশেষজ্ঞদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প।

এর পর থেকেই গত দুদিন ধরে গণমাধ্যম এড়িয়ে চলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে করোনা নিয়ে আর কোনো সংবাদ সম্মেলন করেননি ট্রাম্প।

এর মধ্যেই গতকাল শনিবার এক টুইটে সংবাদ সম্মেলনকে নিজের ‘সময় নষ্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে– হোয়াইট হাউসে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করার কথা চিন্তা করছেন ট্রাম্প। কারণ এসব সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে রীতিমতো কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন প্রেসিডেন্ট। এ ছাড়া মহামারী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্ষিপ্তও হয়ে ওঠেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প টুইটারে লিখেছেন– সত্য প্রকাশ না করে মিডিয়াগুলো যখন শুধু প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে, তখন হোয়াইট হাউসে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের অর্থ কী? এতে মিডিয়াগুলো রেকর্ড রেটিং পায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ ভুয়া সংবাদ ছাড়া আর কিছুই পায় না। এটি সময় নষ্ট ও পণ্ডশ্রম নয় কি!’

এদিকে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দলই তাকে সংবাদ সম্মেলনে যেতে নিষেধ করেছে। কারণ সাংবাদিকদের প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট জর্জরিত হতে পারেন এবং তার প্রভাব পড়তে পারে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে। তাই এখন থেকে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তাকে নাও দেখা যেতে পারে।

প্রসঙ্গত করোনাভাইরাসে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় আড়াই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ৫৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

করোনায় প্রাণহানি ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান রাখা আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৯ লাখ ৬০ হাজার ৬৫১ জন।

অন্যদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৪ হাজার ২৫৬ জনের। ইতোমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬২ জন। তবে ১৫ হাজার ১১০ জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

সূত্র: জাগো নিউজ।