কে এই “আজহারী”? তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কি?জানুন মিজানুর রহমান আজহারী সম্পর্কে।

নিজস্ব প্রতিবেদক।। নাঈম হাসান :

পুরো নাম মিজানুর রহমান। তিনি ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার ডেমরায় জন্মগ্রহণ করেন। তার আদি নিবাস কুমিল্লার মুরাদনগরের পরমতলা গ্রামে। মিজানুর রহমানের বাবা মাদরাসার শিক্ষক। পরিবারে মা-বাবা ও এক ভাই ছাড়াও নিজের স্ত্রী ও দুই কন্যা রয়েছে।

মূলত মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করায় তার নামের সঙ্গে ‘আজহারী’ লেখা হয়। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব তাফসির অ্যান্ড কুরআনিক সায়েন্স থেকে ২০১২ সালে শতকরা ৮০ ভাগ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন মিজানুর রহমান।
সেখান থেকে ২০১৩ সালে চলে যান মালয়েশিয়ায়। মালয়েশিয়ার বিখ্যাত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে কোরআন অ্যান্ড সুন্নাহ স্টাডিজ থেকে ২০১৬ সালে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। মাস্টার্সে তার সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে ছিল ৩.৮২।
মিজানুর রহমান আজহারী পোস্ট গ্রাজুয়েট শেষ করার পর মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি মাধ্যমে এমফিল করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে পিএইচডি করছেন।
মিজানুর রহমান পিএইচডির জন্য বেশিরভাগ সময় মালয়েশিয়ায় থাকেন। এর ফাঁকে বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন মাহফিলে বক্তব্য রাখেন।

তিনি ২০০৪ সালে দাখিল পরিক্ষায় জিপিএ ৫.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ২০০৬ সালে আলিম পরিক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ৫.০০ পেয়ে বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের টপ লিষ্টে জায়গা করে নেন।২০০৭ সালে ইসলামি ফাউন্ডেশন কর্তিক আয়োজিত মিশর সরকারি বৃত্তি পরিক্ষায় হাজার হাজার ছাত্রদের মধ্যে মিজানুর রহমান আজহারী প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং তখন তিনি মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্রাজ্যুয়েট করার জন্য মিশরের গমন করেন। সেখান থেকে তিনি ডিপার্টমেন্ট অফ তাফসির ও কোরআনিক সাইন্স হতে ২০১২ সালে ৮০% সিজিপিএ নিয়ে অনার্সে উত্তীর্ণ হয়।মিশরে পাঁচ বছর শিক্ষা জীবন অতিবাহিত করার পর তিনি গার্ডেন অফ নলেজ খ্যাত মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট গ্রাজুয়েশন, এমফিল এবং পিএইচডি করার সিদ্ধান্ত নেন।২০১৩ সালে তিনি মালয়েশিয়াতে শিক্ষার উদ্দেশ্যে গমন করেন। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপার্টমেন্ট অফ কোরআন স্টাডি থেকে তিনি ২০১৬ সালের মধ্যে পোস্ট গ্রাজুয়েশন এবং এমফিল শেষ করেন। মাস্টার্সে মিজানুর রহমান আজহারীর ৪ এর মধ্যে সিজিপিএ ছিল ৩.৮২, তার পরে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ক্যান্ডিডেট হিসেবে মনোনিত হয়। মিজানুর রহমান আজহারী বর্তমানে পিএইচডি নিয়ে গবেষণা করছেন।

উল্লেখ্য যে, মিজানুর রহমান আজহারীর এমফিল এবং পিএইচডি গবেষণার মাধ্যম ছিল ইংরেজী। এত কিছুর মধ্যে একটা বিষয় ক্লিয়ার যে, তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমিক এবং মেধাবী ছাত্র ছিলেন, যার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে এত ভাল রেজাল্ট করেছেন।বাংলাদেশের মত প্রশ্ন ফাঁস এবং জালিয়াতি বিশ্বের অন্য কোথাও হয় না, এসব কেবল বাংলাদেশে সম্ভব। অন্যদিকে, মিজানুর রহমান আজহারী ILTS পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে আউট অব নাইনের(৯) মধ্যে তিনি ৭/৫ ব্যান্ড স্কোর করেন এবং স্পিকিং সেকশনেও তিনি ৭.৫ ব্যান্ড স্কোর অর্জন করতে সক্ষম হন। এমন উচ্চ শিক্ষিত হয়ে তিনি বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের কাজ শুরু করেছেন।দিনে দিনে ইসলামকে তরুণ প্রজন্মের কাছে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করছেন এই মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।আর তাকে নিয়েই তামাশা করছেন কিছু মূর্খ্য,লেবাসধারী কাঠমোল্লা, দেশের কিছু হুজুরের রূপধারী ভন্ড,মাজার পূজারী এবং দালাল চক্রের লোকেরা । তারা প্রিয় মিজানুর রহমান আজহারীকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।তবে তাতে খুব বেশি একটা লাভ হচ্ছে না তাদের। এই দেশের শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম যুব সমাজ ঠিকই মিজানুর রহমান আজহারীর মূল্যয়ন করছেন।

অন্য দিকে আজহারী ব্যক্তিগত ভাবেও খুব ভালো মনের একজন মানুষ। তিনি নিজের আয়ের বেশির ভাগ টাকা ইসলাম প্রচারে খরচ করে যাচ্ছেন।প্রতিনিয়ত সুন্দর বর্ণনা দিয়ে তিনি চেষ্টা করছেন, দেশের যুব-সমাজকে ধ্বংশের হাত থেকে রক্ষা করে ইসলামের আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে। তিনি সব সময়’ই বলিষ্ঠ কণ্ঠে বিরোধীতা করেছেন সকল অন্যায় এবং অবিচারের বিরুদ্ধে। এমন একজন আলেমের পিছনেই লেগেছে শত শত কাঠমোল্লারা এবং ইসলাম বিরোধী লোকেরা।