ভুটানকে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

প্রথমার্ধেই ভুটানের জালে তিনবার বল পাঠিয়ে জয়ের রাস্তাটা মসৃণ করে ফেলে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল দল। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে আরও এক গোল আদায় করে নেয় পিটার টার্নারের শিষ্যরা। ফলে ৪-০ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নাম লিখিয়েছে যুবারা। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।

প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী রোববার। শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ভারতের। শুক্রবার আরেক সেমিফাইনালে ভারত ৪-০ গোলে মালদ্বীপকে হারিয়ে ফাইনালে নাম লিখিয়েছে।

বয়সভিত্তিক এ টুর্নামেন্টে গত দুইবারের দেখাতেও ভুটানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে ২-০ গোলে জয়। এরপর ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে ৩-০ গোলে জিতে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল।

এবারের আসরে শ্রীলংকাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে মিশন শুরু হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের সঙ্গে ড্র করে করে সবার আগে পেয়ে যায় সেমিফাইনালের টিকিট। তবে ভারত ও বাংলাদেশের পয়েন্ট, গোল পার্থক্য সমান হওয়ায় গ্রম্নপ সেরা নির্ধারিত হয় লটারিতে। সেখানে ভারত গ্রম্নপ সেরা ও বাংলাদেশ হয় বি গ্রম্নপ রানার্সআপ। স্বাগতিক নেপালকে দর্শক বানিয়ে গ্রম্নপ ‘এ’তে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভুটান।

গত আসরে অল্পের জন্য ছুঁয়ে দেখা হয়নি শিরোপাটা। রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। আবারো একটি শিরোপার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশের ছেলেরা। কারণ এক পা দু’পা করে শেষ পর্যন্ত ফাইনালটা যে নিশ্চিত করে ফেলেছে অ্যান্ড্রু পিটার টার্নারের শিষ্যরা। বয়সভিত্তিক এ আসরে বাংলাদেশের বিপক্ষে কখনোই জিততে পারেনি ভুটান। শুক্রবার সেই ইতিহাসটা বদলে দিতে পারতো তারা। কিন্তু সেটি হতেই দিলেন না ইমন-হৃদয়রা।

শুক্রবার নেপালের কাঠমুন্ডুর এপিএফ কমপেস্নক্সে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে বাংলাদেশের হয়ে একটি করে গোল করেছেন তানভীর হোসেন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, মেরাজ হোসাইন ও দীপক রায়।

ভুটানকে শুরু থেকেই চেপে ধরে বাংলাদেশ। ম্যাচ শুরুর ৩২ মিনিটের মধ্যে স্কোরলাইন ৩-০ করে বাংলাদেশ। অল-অ্যাটাক ফুটবলে ম্যাচের মাত্র ১৬ মিনিটেই আসে ফল। থ্রো থেকে পাওয়া বলে মাথা ছুঁয়ে লাল-সবুজদের এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার তানভীর হোসেন।

প্রথমার্ধে ভুটানের জালে আরও দুইবার বল জড়ায় অ্যান্ড্রু পিটার টার্নারের শিষ্যরা। ২৭ মিনিটে দুই ‘ফাহিমের’ বোঝাপড়ায় বাংলাদেশ পায় নিজেদের দ্বিতীয় গোল। নিজ অর্ধ থেকে বল নিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে যান মিডফিল্ডার ফাহিম মোর্শেদ। পরে বল এগিয়ে দেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের দিকে। সেখান থেকে বা প্রান্তের দুরূহ কোণ দিয়ে জাল খুঁজে নেন এই ফরোয়ার্ড।

তৃতীয় গোলে একক নৈপুণ্য মেরাজ হোসেনের। ৩২ মিনিটে দারুণ গতিতে ছুটে গিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেয়া তার শট লাফিয়েও ঠেকাতে পারেননি ভুটানি গোলরক্ষক।

ম্যাচের একদম শেষভাগে গোলের হালি পূর্ণ করেন বদলি মিডফিল্ডার দীপক রায়। যোগকরা সময়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেয়া তার শট বুলেট গতিতে ঠাঁই নেয় প্রতিপক্ষ জালে। রেফারি শেষ বাঁশি বাজালে জয় উৎসবে মাতেন মিরাজ-তানরিবরা

বাংলাদেশ দলের কোচ এন্ড্রু পিটার টার্নার শিষ্যদের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘খুবই ভালো পারফরম্যান্স করেছে ছেলেরা। দলের সবাই সঠিকভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।’

গ্রম্নপ পর্বে ভারতের সঙ্গে গোলশূণ্য ড্র করে বাংলাদেশ। যে ম্যাচে ৪ টি হলুদ কার্ড দেখতে হয়েছিলো টার্নার শিষ্যদের। কিন্তু সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একটি কার্ডও দেখতে হয়নি বাংলাদেশকে। শিষ্যদের কি দীক্ষা দিয়েছিলেন, যে তারা এতোটা ঠান্ডা মাথায় খেলেছে? বাংলাদেশের কোচের উত্তর, ‘হঁ্যা ছেলেরা এই ম্যাচে শিশুসূলভ কোন আচরণ করেনি। ঠান্ডা মাথায় একেকজন পরিণত ফুটবলারের মতোই খেলেছে। আমরা তাদের বুঝিয়েছি এটা সেমিফাইনাল। খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এখানে ভুল করা চলবে না। ছেলেরা সেটা খুব ভালো ভাবেই মেনে চলেছে।’

সাফের এই বয়স ভিত্তিক আসরের শুরু থেকেই অংশ নিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টে বিগত আসরগুলোতে তাদের সব থেকে বড় সাফল্য গত আসরে রানার্সআপ হওয়া। এর আগের আসরে তৃতীয় হয়েছিল বাংলাদেশ।