লংকা সফরকে চ্যালেঞ্জ মানছেন মাশরাফি

আমি মনে করি, সিরিজ শুরুর আগে দুই দলই সমান অবস্থানে। শ্রীলংকা হোমে ভালো খেলে, কয়েকজন খেলোয়াড় আছেন যারা অনেকদিন ধরেই খেলছেন। তারা বিশ্বকাপে আমাদের মতোই তিনটি জয় পেয়েছে, ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। নিদাহাস ট্রফির উত্তেজনাটা দুই দলের মধ্যেই থাকবে, তাই অন্যরকম একটা আবহ থাকবেই। দুই দলই সমান অবস্থানে থেকে যাত্রা শুরু করবে

বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই আরেকটি সিরিজের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশকে। শ্রীলংকায় সীমিত ওভারের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে টাইগাররা। যে সিরিজে নিজেদের ‘ফেবারিট’ বলে দিন দুয়েক আগেই হুঙ্কার দিয়ে রেখেছিলেন বাংলাদেশ দলের তরুণ অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এমনটা বললেন না। বরং আসন্ন সিরিজে দুই দলই সমান সমান অবস্থানে থাকবে বলে মনে করছেন টাইগার দলপতি। তাই পরীক্ষানিরীক্ষার তেমন একটা সুযোগও দেখছেন না তিনি।

লংকানদের মাঠে সিরিজ খেলতে আজ দেশ ছাড়বে টাইগাররা। তবে তার আগে দলের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার কাছে এই সিরিজে কারা এগিয়ে থাকবে সে বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। জবাবে মাশরাফি বলেন, ‘আমি মনে করি, সিরিজ শুরুর আগে দুই দলই সমান অবস্থানে। শ্রীলংকা হোমে ভালো খেলে, কয়েকজন খেলোয়াড় আছেন যারা অনেকদিন ধরেই খেলছেন। তারা বিশ্বকাপে আমাদের মতোই তিনটি জয় পেয়েছে, ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। নিদাহাস ট্রফির উত্তেজনাটা দুই দলের মধ্যেই থাকবে, তাই অন্যরকম একটা আবহ থাকবেই। দুই দলই সমান অবস্থানে থেকে যাত্রা শুরু করবে। তবে আমি দলের ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী।’

বিশ্বকাপে প্রত্যাশামতো ফল হয়নি। আগামী বিশ্বকাপের কথাও তাই ভাবা শুরু করতে হবে। তবে সেটা এত তাড়াহুড়ো করে নয় বলেই মনে করেন মাশরাফি। শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজটিকে তিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন, তাই এখানে পরীক্ষানিরীক্ষারও বিপক্ষে বাংলাদেশ অধিনায়ক। মাশরাফি বলেন, ‘আমরা এখনো ওরকম দল হইনি। আমাদের জন্য প্রতিটা সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কেউ হয়তো সিনিয়রদের বিশ্রাম দিয়ে তরুণ খেলোয়াড়দের খেলানোর কথা বলবেন, সেটা ভবিষ্যতে করে দেখা যেতে পারে। হয়তো দু-এক বছর পর করতেও হবে আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে। তবে এই মুহূর্তে এই সিরিজটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষানিরীক্ষার আসলে কোনো সুযোগ নেই।’

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল সাকিবকেন্দ্রিক। সেই সাকিবকে ছাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ খেলতে যাচ্ছেন, সেটা কতটা প্রভাব ফেলবে? এমন প্রশ্নে মাশরাফির উত্তর, ‘সাকিব অবশ্যই বিশ্বকাপে ভালো খেলেছে, খুবই ভালো খেলেছে। তবে সাকিবকে আমরা সবসময়ই মিস করি, বিশ্বকাপের পর বলেই শুধু নয়। তার ব্যাকআপে দু-তিনজন লাগে। সাকিবকে তাই মিস করবই। তবে যারা আছে, তাদের ওপরই আস্থা রাখতে হবে।’

বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে অধিনায়ক মাশরাফি কোনোমতে উতরে গেলেও পারফরমার মাশরাফি একদমই মার্ক পাবেন না। ৮ ম্যাচ খেলে তার ঝুলিতে মাত্র ১টি উইকেট। বিশ্বকাপে ভালো করতে না পারার কারণে বাড়তি চাপ নিশ্চয়ই থাকবে তার। তবে নড়াইল এক্সপ্রেস এমনটা মানতে চাইলেন না। তার ভাষায়, ‘চাপ সবসময়ই ছিল। আগেও ছিল, এখনো আছে। চাপ নিয়েই আসলে খেলতে হয়। কোনো বাড়তি চাপ নেই, চাপ থাকার কারণও নেই।’

আশাটা বেশ বড় ছিল। বাংলাদেশ দলের গত কয়েক বছরের যা পারফরম্যান্স তাতে বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পেরিয়ে অনেকে আবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নও দেখে ফেলেছিলেন। তবে বাস্তবতার নিরিখে চিন্তা করলে সেরা পাঁচ দলের মধ্যে থেকে শেষ করার ভালো সুযোগ ছিল টাইগারদের। সেটাও হয়নি। শেষটায় এসে পাকিস্তানের কাছে নাকাল হয়ে অষ্টম স্থানে থেকে শেষ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সাফল্যের চেয়ে তাই ব্যর্থতা নিয়েই কথা হচ্ছে বেশি। যার দায়ভার সবচেয়ে বেশি নিতে হচ্ছে অধিনায়ক মাশরাফিকে। 

দায় এড়ানোর চেষ্টা না করে নিজের কাঁধেই সব দোষ নিয়ে নিলেন। বিশ্বকাপের ব্যর্থতা নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘সত্যি করে বলতে আমি আপসেট। ভীষণ আপসেট। অনেকেই হয়তো বলবেন, এটা নিয়ে মন খারাপ না করতে, মাথা থেকে ঝেরে ফেলতে। তবে যদি বলি মন খারাপ হয়নি, এটাই হবে লজ্জার কথা। অবশ্যই মন খারাপ হয়েছে। আমার দুটি দায়িত্ব ছিল, অধিনায়ক আর পারফরমার হিসেবে। পারফরমার হিসেবে কিছুই করতে পারিনি।’

অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি বরাবরই সফল, বিশ্বকাপে দলের আশা পূরণ না হলেও তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না কেউ। তবে পারফরমার মাশরাফির কথা বললে হয়তো ‘দশে এক’ পাওয়াও কঠিন হয়ে যাবে। নড়াইল এক্সপ্রেস বিশ্বকাপজুড়েই ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। আট ম্যাচ খেলে সাকল্যে পেয়েছেন একটি মাত্র উইকেট। বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স নিয়ে বলতে গিয়ে কণ্ঠে একরাশ হতাশাই ঝরে পড়ল টাইগার অধিনায়কের। তিনটি জয় পেলেও তিনি মনে করেন, টুর্নামেন্টে ব্যর্থই হয়েছে বাংলাদেশ।