বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ও অবসর বোর্ডের সুবিধার বিষয়ে স্পষ্টীকরণ

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ও অবসর বোর্ডের সুবিধার বিষয়ে স্পষ্টীকরণ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে ১০ বছর চাকুরি পুর্ণ না হলে কল্যাণ ও অবসর বোর্ড থেকে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা আর্থিক কোন সুবিধা পায় না। এটি কল্যাণ ট্রাস্ট্রের সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান সাজুর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণের জন্য ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন যা হুবহু জন্য তুলে ধরেন অধ্যক্ষ শাজাহান আলম সাজু।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হৃদয়ের স্পন্দন প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গুজবে কান দিবেন না। বিষয়টি সকলের জানা প্রয়োজন।

কল্যাণ ট্রাস্ট শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিয়ন্ত্রণাধিন বেসরকারি এমপিওভূক্ত প্রায় ৩৪ হাজার স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৫ লক্ষ ৩০ হাজার শিক্ষক কর্মচারীর সেবাদানকারি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে পাশকৃত আইনের বিধিবিধান অনুযায়ী সংস্থাটি পরিচালিত হয়ে থাকে। কল্যাণ ট্রাস্ট সরকারি বেসরকারি ২১ সদস্য বিশিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ড দ্ধারা পরিচালিত হয়ে থাকে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মাউশির মহাপরিচালক ভাইস চেয়ারম্যান এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি সংস্হাটির প্রধান নির্বাহী (সচিব) হিসাবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যে দায়িত্বে বর্তমানে অধ্যক্ষ শাজাহান আলম সাজু রয়েছে ।

সম্প্রতি একটি মহল থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে ১০ বছর চাকুরি পুর্ণ না হলে কল্যাণ ও অবসর বোর্ড থেকে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা আর্থিক কোন সুবিধা পায় না। এটা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কল্যাণ ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী একজন শিক্ষক কিংবা কর্মচারী যতবছর চাকুরি করেন সর্বশেষ বেতন স্কেল অনুযায়ী ৯০ সাল থেকে হিসাব করে ততমাসের সমপরিমাণ টাকা কল্যাণ সুবিধা পেয়ে থাকেন। কেউ এক বছর চাকুরি করে মারা গেলে কিংবা পদত্যাগ করলেও তিনি আইন অনুযায়ী পু্র্ণাঙ্গ কল্যাণ সুবিধা পেয়ে থাকেন। তবে অবসর বোর্ডের ক্ষেত্রে চাকরি ১০ বছর পুর্ণ না হলে শুধু প্রদত্ত চাঁদার টাকা ফেরত পেয়ে থাকেন। ৫% ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হওয়ার পর থেকে মুল বেতনের সাথে অতিরিক্ত ৫% যুক্ত করে ১৯৯০ সাল থেকে হিসাব করে কল্যাণ সুবিধা প্রদান করা হয়। এতে করে একজন শিক্ষক যে পরিমান চাঁদা প্রদান করেন তার প্রায় ১৮/১৯ গুন বেশি টাকা কল্যাণ সুবিধা পেয়ে থাকেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ কল্যাণ ট্রাস্টের ১৯৯০ সালের ২৮ নং আইনের ১০(২) অনুযায়ী চাঁদা প্রদান বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাঁদা দিলে তাকে বাধ্য করা যাবে না। চাঁদা না দিলে তিনি কল্যাণ সুবিধা দাবি করতে পারবেন না। কেউ যদি মনে করেন তিনি চাঁদা দিবেন না তিনি সংশ্লিষ্ট ডিজির কাছে আবেদন করতে পারেন। অনেকে মনে করেন ২৫ বছরের বেশি চাকরি করলেও সর্বোচ্চ ২৫ মাসের বেতনের সমপরিমান টাকা পেয়ে থাকেন। এটাও সঠিক নয়। কল্যাণ ট্রাস্টের আইন অনুযায়ী যত বছর চাকুরি ততমাসের সমপরিমান টাকা পাবেন। এ বছর (২০২০ ইং) সালে যারা অবসরে যাচ্ছেন তারা ৩০ মাসের মুল বেতনের সমপরিমাণ টাকা কল্যাণ সুবিধা পাচ্ছেন।

এখানে উল্লেখ্য শিক্ষক কর্মচারীদের নিকট থেকে আদায়কৃত চাঁদার টাকা সংশ্লিষ্ট তিনটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (মাউশি,কারিগরি ও মাদরাসা) এর একাউন্টস থেকে সরাসরি কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে থাকে। সেখান থেকে বিএফটিএনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে যায়। কল্যাণ ট্রাস্ট্রের সচিব শুধু কাগজে স্বাক্ষর করে ব্যাংকে পাঠিয়ে দেন। এই টাকা তার ছুয়ে দেখারও সুযোগ নেই।

একসময় বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা অবসরে যাবার পর শুন্য হাতে বাড়ি ফিরতেন। তারা কোন আর্থিক সুবিধা পেতেন না। ছাত্রছাত্রীরা চাঁদা উঠিয়ে শিক্ষকদের বিদায় অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে ছাতা, লাঠি, জায়নামাজ, তজবি তুলে দিতো। এটাই ছিল শিক্ষকদের শেষ জীবনের প্রাপ্তি। এখন আর শুন্য হাতে বাড়ি যেতে হয় না। একটা সম্মানজনক টাকা নিয়ে তাঁরা বাড়ি ফেরেন। ২০২০ সালে একজন অধ্যক্ষ অবসরে গেলে কল্যাণ অবসর মিলে প্রায় ৫২ লক্ষ, একজন প্রধান শিক্ষক প্রায় ৩০ লক্ষ, একজন প্রভাষক প্রায় ২৪ লক্ষ এবং একজন সহকারী শিক্ষক প্রায় ১৬ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা। পচ্ছেন। ৫% ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হওয়ায় ফলে পাওনার পরিমান প্রতি বছরই বাড়ছে।

৫% ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হওয়ার ফলে কল্যাণ ও অবসরে ফান্ড সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সব সমস্যা সমাধানের জন্য একমাত্র সমাধান শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ। এ ব্যাপারে সকলে ঐক্যবদ্ধ হউন।